নিজস্ব প্রতিবেদক
যুবসমাজের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি স্পষ্ট করেছেন, বর্তমান সরকার যেকোনো প্রকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি বজায় রেখে কাজ করছে। প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির বিপরীতে একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলে দেশের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ, আত্মনির্ভরশীল ও কর্মক্ষম মানবসম্পদ হিসেবে রূপান্তর করাই বর্তমান প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
শুক্রবার আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাগরিক সংগঠন ‘ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র আয়োজনে এই বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে ‘কেয়ার বাংলাদেশ’ ও ‘এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজেস বাংলাদেশ’।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান যুগে কেবল সনাতন উচ্চশিক্ষার সনদ অর্জনই কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। ফলে যুবসমাজ যাতে দীর্ঘমেয়াদে বেকারত্বে না ভোগে, সে লক্ষ্যে সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিভিন্ন আধুনিক ও কারিগরি দক্ষতায় তরুণদের পারদর্শী করে তোলা হচ্ছে, যাতে তারা স্বাবলম্বী হয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে সরাসরি অবদান রাখতে সক্ষম হন।
যুবসমাজকে সামাজিক অবক্ষয় ও মাদকের ভয়াবহ বিস্তার থেকে রক্ষা করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে খেলাধুলা ও শারীরিক চর্চার বিকল্প নেই। সরকার ক্রীড়াক্ষেত্রকে শুধু বিনোদন নয়, বরং একটি লাভজনক ও টেকসই পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দেশব্যাপী পর্যাপ্ত ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলার অংশ হিসেবে যেখানেই উন্মুক্ত বা খালি জায়গা পাওয়া যাবে, সেখানেই খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এ ছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার ঘটাতে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রাথমিক স্তরের চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে বাধ্যতামূলক করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, দেশ ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের বর্তমান চাহিদার নিরিখে একটি যুগোপযোগী ও প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসূচি’ বাস্তবায়ন, তৃণমূল পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ, ক্রীড়াবিদদের জন্য নিয়মিত ক্রীড়া ভাতা প্রদান এবং বিদ্যমান খেলার মাঠগুলোর আধুনিকায়ন তরুণদের মাদকমুক্ত রাখতে এবং কর্মক্ষম জাতি গঠনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
‘দক্ষ যুবশক্তি গড়ে তুলতে সরকারের চেয়ে বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা বেশি গুরুত্বপূর্ণ’ শীর্ষক এই ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা অংশ নেন। প্রাণবন্ত যুক্তি-তর্কের পর ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিকে পরাজিত করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতা শেষে প্রধান অতিথি বিজয়ী ও রানার-আপ দলের বিতার্কিকদের মাঝে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করেন।