ক্রীড়া প্রতিবেদক
ঢাকা: ক্রীড়াকে তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি সম্মানজনক ও টেকসই পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার নানামুখী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রীড়াবিদদের সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা প্রদান কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর পল্টনে অবস্থিত মোহাম্মদ আলী বক্সিং স্টেডিয়ামে জাতীয় কিকবক্সিং অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘বেস্ট অব বেস্ট জাতীয় কিকবক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ক্রীড়াঙ্গনকে আধুনিক ও স্বনির্ভর করতে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর উন্নয়ন জরুরি। অতীতে পেশাদার হিসেবে ক্রীড়াকে বেছে নেওয়া কঠিন হলেও বর্তমান সরকার ক্রীড়াবিদদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। ক্রীড়াবিদদের নিয়মিত বেতন ও ভাতার আওতায় আনা এই খাতের পেশাদারিত্ব তৈরিতে একটি নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে।
শিশু ও কিশোরদের বিকাশে ক্রীড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত খেলাধুলার বিকল্প নেই। প্রযুক্তি নির্ভরতার যুগে তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখী করতে তৃণমূল পর্যায় থেকেই সুযোগ তৈরি করতে হবে। সে লক্ষ্যে সরকার দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি করে পূর্ণাঙ্গ খেলার মাঠ নির্মাণের সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর মতো যুগান্তকারী কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সম্ভাবনাময় খুদে অ্যাথলেটদের বাছাই করা হচ্ছে। নিবিড় প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে এসব উদীয়মান খেলোয়াড় জাতীয় দলভুক্ত হয়ে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম ও গৌরব বৃদ্ধি করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে কিকবক্সিং খেলাটিকে সরকারি প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। মন্ত্রী বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়ে বলেন, মার্শাল আর্ট ও কিকবক্সিংয়ের মতো লড়াইয়ের খেলাগুলো তরুণদের শারীরিক সক্ষমতা ও আত্মরক্ষা কৌশলে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে। সরকার এই খেলার প্রচার ও প্রসারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেবে।
জাতীয় কিকবক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইশতিয়াক আবেদিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য রাখেন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাফিজ। এ সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত অভিজ্ঞ ক্রীড়াবিদ, প্রশিক্ষক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের রেফারি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ক্রীড়া সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী পর্ব শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক লড়াই শুরু হয়।