স্বাস্থ্য ডেস্ক
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নবনির্মিত ১৫ তলা ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকাল ১০টার দিকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে তিনি এই নতুন ভবনের উদ্বোধন করেন। নতুন এই সম্প্রসারণের ফলে বিশেষায়িত এই চিকিৎসাকেন্দ্রে মোট শয্যাসংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে এক হাজারে উন্নীত হলো।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী চত্বরে একটি স্মারক বৃক্ষের চারা রোপণ করেন। এরপর তিনি বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন এবং শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে আধুনিক এই বহুতল ভবনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সূচনা করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন তলা ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনকালে দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করাই সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। স্নায়ুরোগ, ব্রেন স্ট্রোক ও মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত জটিলতা নিরসনে আধুনিক অবকাঠামো এবং প্রশিক্ষিত জনবল অত্যন্ত জরুরি। এই হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে নিউরোলজিক্যাল ও নিউরোসার্জিক্যাল রোগের আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা সাধারণ রোগীদের বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা এবং চিকিৎসা ব্যয় হ্রাস করবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ৫০০ শয্যা যুক্ত হওয়ায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালটি শয্যাসংখ্যার দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম স্নায়ুরোগ চিকিৎসাকেন্দ্রে রূপ নিল। নতুন এই ১৫ তলা ভবনে রয়েছে আধুনিক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ), সর্বাধুনিক অপারেশন থিয়েটার এবং স্ট্রোক রোগীদের জরুরি চিকিৎসার বিশেষ ব্যবস্থা।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে শেরেবাংলা নগরে ১০ তলা ভবনে মাত্র ৩০০ শয্যা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে দেশজুড়ে স্নায়ুরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ও চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় শয্যাসংখ্যা ৫০০ তে উন্নীত করা হয়। তবে রোগীর ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে শয্যাসংকটের সৃষ্টি হচ্ছিল। নতুন এই সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে সর্বমোট এক হাজার শয্যায় রোগীদের পূর্ণাঙ্গ স্নায়ুরোগের চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সম্প্রসারিত এই আধুনিক সুবিধার মাধ্যমে শুধু ঢাকা নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা জটিল স্নায়ুরোগীরাও স্বল্প খরচে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা পাবেন, যা সার্বিক জাতীয় স্বাস্থ্য খাতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।