বাংলাদেশ ডেস্ক
আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সংঘাতের সময় সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধান নিকোলাস পল আলবিন ফ্লুরির এক বৈঠকে এই গুরুত্বারোপ করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উভয় পক্ষ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আলোচনায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব, প্রায়োগিক দিক, প্রশিক্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় স্থান পায়। বিশেষ করে সশস্ত্র সংঘাত বা জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ, নারী, শিশু, আহত ও অসুস্থ ব্যক্তি, চিকিৎসাকর্মী, মানবিক সহায়তাকর্মী এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো সংঘাতের পরিবেশেও মানুষের জীবন, মৌলিক মর্যাদা এবং মানবিক মূল্যবোধ রক্ষা করা এবং এর মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা।
বৈঠকে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মানবজীবনের নিরাপত্তাকে সর্বাগ্রে স্থান দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে বলেন, মানবিক মূল্যবোধ ও আইনগত সচেতনতা শুধু পেশাজীবী মহলে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সুনাম ও সক্রিয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সামরিক শিক্ষা ও পেশাদার প্রশিক্ষণে বাস্তবভিত্তিক পাঠ, কেস স্টাডি, সেমিনার এবং প্রশিক্ষক উন্নয়ন কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়।
আলোচনায় গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার বিষয়টিও বিশেষভাবে উঠে আসে। দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মূল উদ্দেশ্য এবং মানবিক মূল্যবোধ সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ও বোধগম্য ভাষায় তুলে ধরা সম্ভব বলে বৈঠকে মত প্রকাশ করা হয়। এছাড়া তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের বীজ বপন করতে শিক্ষা কার্যক্রম, গণমাধ্যমের সঠিক ব্যবহার এবং বহুমুখী জনসম্পৃক্তমূলক কর্মসূচি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।
বর্তমান যুগের পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন প্রযুক্তি এবং সাইবার কার্যক্রমের ক্ষেত্রে মানবিক ও আইনগত বিষয়সমূহ যথাযথভাবে বিবেচনায় রাখার প্রয়োজনীয়তা আলোচিত হয়। বৈঠক শেষে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা, গবেষণা উদ্যোগ গ্রহণ, পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমে দুই পক্ষই পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সহযোগিতা বাংলাদেশের জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।