বাংলাদেশ ডেস্ক
অনলাইনে যাচাইযোগ্য শিক্ষা সনদের বিপরীতে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন এখন থেকে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারাই নিষ্পত্তি করতে পারবেন। এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দিয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে নতুন পরিপত্র জারি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পরিপত্রে এই নতুন নির্দেশনা কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে।
নতুন এই নির্দেশনার ফলে সাধারণ নাগরিকদের এনআইডি সেবা প্রাপ্তি আরও সহজ ও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এতদিন জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে সেবাগ্রহীতাদের নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হতো। বিশেষ করে শিক্ষা সনদের সঙ্গে এনআইডির তথ্যের অমিল থাকলে তা সংশোধনের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। এখন থেকে বৈধ ও অনলাইনে যাচাইযোগ্য শিক্ষা সনদ সাপেক্ষে মাঠ পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তারা সরাসরি এসব আবেদন নিষ্পত্তি করতে পারবেন, যা নাগরিক সেবাকে আরও জনবান্ধব করে তুলবে।
তবে সব ধরনের সংশোধন মাঠ পর্যায়ে নিষ্পত্তির সুযোগ রাখা হয়নি। পরিপত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ অনুযায়ী জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন এবং জন্মতারিখের সঙ্গে নিজ নাম ও বাবা-মায়ের নামের সম্পূর্ণ পরিবর্তনের আবেদনগুলো কেবল নির্বাচন কমিশনের মহাপরিচালক পর্যায়ে নিষ্পত্তি করা হবে। এছাড়া কোনো নাগরিকের জন্মতারিখ, নিজ নাম ও বাবা-মায়ের নামের সম্পূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একই ফিল্ডে দ্বিতীয়বার আর কোনো সংশোধনের সুযোগ থাকবে না বলে পরিপত্রে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে কেউ জালিয়াতি বা অসদুপায় অবলম্বন করতে না পারে, সেজন্য এই সুরক্ষা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষা সনদের পাশাপাশি অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও দলিলাদি গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের বিদ্যমান স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা এসওপি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এনআইডির আবেদন ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে অনুমোদন কিংবা বাতিলের সময় সেন্ট্রাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে বা সিএমএস-এ আবশ্যিকভাবে সুনির্দিষ্ট কারণ বা নোট উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে কোন যুক্তিতে একটি আবেদন মঞ্জুর বা বাতিল করা হলো, তার প্রাতিষ্ঠানিক রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে।
মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য পরিপত্রে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা তাদের অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সম্পন্ন করা কাজের নিয়মিত তদারকি করবেন। এ ছাড়া দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে প্রতি মাসে প্রত্যেক নিষ্পত্তিকারী কর্মকর্তার অন্তত তিনটি আবেদন সঠিকভাবে নিয়ম অনুযায়ী নিষ্পত্তি হয়েছে কি না, তা যাচাই ও পরীক্ষা করতে হবে। এই মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সেবার মান অক্ষুণ্ণ রাখা এবং মাঠ পর্যায়ে যেকোনো অনিয়ম রোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।