বাংলাদেশ ডেস্ক
মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস উইংয়ের বিপরীতে বিকল্প হিসেবে তাকে নিয়ে প্রচারণা চালানোর ঘটনায় বিরক্তি ও বিব্রতবোধ প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বর্তমান প্রেস উইংয়ের কার্যক্রম নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা মনগড়া প্রচার চালানোর অবকাশ নেই এবং তাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কর্মরত কর্মকর্তাদের অস্বস্তিতে ফেলছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরে এসব কথা বলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে মেক্সিকোতে বাংলাদেশের মিশন প্রধান মুশফিকুল ফজল আনসারীকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা এবং তাকে সরকারি কোনো বিশেষ দায়িত্বে দেখতে চাওয়ার বিষয়ে নানা ধরনের প্রচারণা লক্ষ্য করা যায়। এই প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে তিনি এই বক্তব্য দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রেস উইংয়ে কর্মরত প্রেস সচিব, অতিরিক্ত প্রেস সচিব, ডেপুটি প্রেস সচিব ও সহকারী প্রেস সচিবরা সমন্বিতভাবে প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক দর্শন এবং সরকারি নীতি জনগণের সামনে তুলে ধরতে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
বর্তমান প্রেস উইংয়ের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, কর্মরত এই টিমের সদস্যদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজের ধরন, একাগ্রতা এবং রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচিতি রয়েছে, যা তাদের দায়িত্ব পালনে একটি বড় শক্তি হিসেবে কাজ করছে। কাজের ক্ষেত্রে উন্নতির সুযোগ সবসময়ই থাকে এবং অন্য কোনো টিম এলে সবকিছু রাতারাতি বদলে যাবে বা শতভাগ নিখুঁত হবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা দেওয়ার সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি অনুরোধ করেছেন, তাকে নিয়ে যেন এমন কোনো প্রচারণা বা স্লোগান বা পদপ্রত্যাশী হিসেবে উপস্থাপন করা না হয়, যা প্রশাসনের ভেতরে ভুল বোঝাবুঝি বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী স্মরণ করিয়ে দেন যে, রাষ্ট্রীয় পদ-পদবি দায়িত্ব পালনের একটি মাধ্যম মাত্র, তবে এটি দেশসেবার একমাত্র পথ নয়। অতীতে কোনো রাষ্ট্রীয় পদ ছাড়াই তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং ভোটাধিকারের পক্ষে দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজ অবস্থান থেকে সোচ্চার ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও যেকোনো অবস্থানে থেকেই দেশের জন্য কাজ করার মানসিকতা রাখেন। প্রশাসন পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সরকারের প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী যাকে যে পদের জন্য উপযুক্ত মনে করবেন, তাকেই সেই দায়িত্ব অর্পণ করবেন। এ বিষয়ে বাইরে থেকে কোনো ধরনের দাবি বা অপ্রয়োজনীয় প্রচারণা চালানো অনভিপ্রেত ও অস্বস্তিকর। তিনি তার বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, রাষ্ট্রীয় পদ-পদবি সাময়িক বিষয় হলেও দেশের প্রতি নাগরিক ও পেশাগত দায়িত্ববোধ চিরস্থায়ী।