অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অব্যবস্থাপনা, করপোরেট সুশাসনের ঘাটতি, অনিয়মিত নিয়োগ এবং সিকিউরিটিজ লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে। সম্প্রতি কমিশন থেকে এসংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। পুঁজিবাজারের বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষা এবং স্টক এক্সচেঞ্জের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিযুক্ত অনুসন্ধান কর্মকর্তাদের আদেশ জারির তারিখ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিস্তারিত অনুসন্ধান সম্পন্ন করে কমিশনের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। ডিএসইর একজন শেয়ারহোল্ডার সদস্যের উত্থাপিত সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগে স্টক এক্সচেঞ্জটির কার্যক্রমে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম এবং করপোরেট সুশাসনের গুরুতর অভাব রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তদন্ত আদেশের পরিধি অনুযায়ী, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) ও মহাব্যবস্থাপকসহ অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা সিকিউরিটিজ লেনদেন কিংবা প্রত্যক্ষ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি, এসব কর্মকর্তার পরিবারবর্গ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পুঁজিবাজারের এমন কোনো ব্যবসায় বা লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত আছেন কি না, যেখানে কর্মকর্তাদের পদের অপব্যবহার বা আস্থাভিত্তিক সম্পর্কের প্রশ্ন আসতে পারে, তাও অনুসন্ধানের আওতায় রাখা হয়েছে।
এছাড়া শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ এবং পুনর্নিয়োগ প্রক্রিয়াও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কমিটি, মনোনয়ন ও পারিশ্রমিক কমিটি এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) ভূমিকা কী ছিল, তা পরীক্ষা করা হবে। চুক্তিভিত্তিক পদায়ন, বিভিন্ন পরামর্শক বা উপদেষ্টা নিয়োগ এবং শীর্ষ পর্যায়ের অন্যান্য জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধিবিধান ও নিয়মনীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ধারা ১৯ অনুযায়ী গোপনীয়তা রক্ষার বিধান। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং শীর্ষ কর্মকর্তারা এই গোপনীয়তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে আইনগত বাধ্যবাধকতা যথাযথভাবে মেনে চলেছেন কি না, তাও যাচাই করা হবে। বাজারের সংবেদনশীল তথ্য ও তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় কোনো ব্যত্যয় ঘটে থাকলে তা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
এই অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিএসইসি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে নিয়োজিত কর্মকর্তারা হলেন—বিএসইসি’র পরিচালক এ এস এম মাহমুদুল হাসান, অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ শামসুর রহমান এবং সহকারী পরিচালক মো. মতিউর রহমান। পুঁজিবাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা সুদৃঢ় করতে এই অনুসন্ধানের ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।