আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও আন্তসীমান্ত মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সশস্ত্র বাহিনী একটি বিশেষ যৌথ নিরাপত্তা মহড়া পরিচালনা করেছে। বৃহস্পতিবার সীমান্তবর্তী মার্কিন শহর এল পাসো ও মেক্সিকোর সিউদাদ হুয়ারেসের মধ্যবর্তী এলাকায় এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। রিও গ্রান্দে নদীর কৌশলগত অঞ্চলে পরিচালিত এ মহড়ায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। মাদক পাচারকারী চক্রগুলোর তৎপরতা দমন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানোই এই সমন্বিত অভিযানের মূল উদ্দেশ্য বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মহড়া চলাকালে রিও গ্রান্দে নদী তীরবর্তী স্পর্শকাতর এলাকায় দুই দেশের বিপুলসংখ্যক সামরিক ও পুলিশের সাঁজোয়া যান টহল দেয়। এছাড়া আকাশপথে নজরদারি জোরদার করতে নিয়োজিত করা হয় একাধিক হেলিকপ্টার। মহড়ার অংশ হিসেবে হেলিকপ্টার থেকে বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের দড়ি বেয়ে দ্রুততম সময়ে নিচে নেমে অভিযানের কৌশলগত মহড়া চালাতে দেখা যায়। স্থল ও আকাশপথের সমন্বয়ে পরিচালিত এই মহড়ার মাধ্যমে দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা যাচাই করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মহড়ায় অংশ নেয় দেশটির বর্ডার প্যাট্রোল এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর চৌকস সদস্যরা। অপরদিকে মেক্সিকোর পক্ষে তাদের নিয়মিত সামরিক বাহিনী ও ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা এতে অংশ নেন। ভৌগোলিকভাবে দুই দেশের প্রাকৃতিক সীমানা নির্দেশকারী রিও গ্রান্দে নদীর অববাহিকা দীর্ঘদিন ধরেই নজরদারির ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ফলে সম্ভাব্য যেকোনো অনুপ্রবেশ বা অপরাধমূলক তৎপরতা প্রতিহত করতে সেখানে আধুনিক নজরদারি সরঞ্জাম ও অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন রাখা হয়েছে।
যে অঞ্চলে মহড়াটি অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেটি কুখ্যাত ‘হুয়ারেস কার্টেল’ বা হুয়ারেস মাদক চোরাচালানকারী চক্রের তৎপরতাযুক্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই চক্রটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এর আগে সিনালোয়া কার্টেল এবং জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেলসহ মেক্সিকোভিত্তিক আরও কয়েকটি প্রভাবশালী মাদক পাচারকারী গোষ্ঠীকে একই ধরণের সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ওয়াশিংটন। সংশ্লিষ্ট এলাকাটিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা চোরাচালান চক্রগুলোর নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই যৌথ মহড়াকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর থেকে মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ মাদক প্রবেশ ও অভিবাসী অনুপ্রবেশের প্রবাহ কমিয়ে আনতে মেক্সিকো সরকারের ওপর ধারাবাহিক চাপ বজায় রাখা হয়েছে। মেক্সিকো সীমান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানাইলসহ মারাত্মক মাদকের বিস্তার ঠেকাতে দ্বিপক্ষীয় সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়ে আসছে মার্কিন প্রশাসন।
সীমান্ত অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা হ্রাস করতে দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই যৌথ মহড়া কেবল মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মহড়া নয়, বরং সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র ও মানব পাচারকারীদের প্রতি দুই দেশের কঠোর অবস্থানের স্পষ্ট বার্তা। আগামী দিনগুলোতে এই অঞ্চলে যৌথ নজরদারি ও তল্লাশি অভিযান আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।