রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর পল্লবী থানা এলাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় মো. রুবেল ওরফে ল্যাংড়া রুবেলসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে তাদের বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করা হয়।
গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে পল্লবী এলাকায় একটি চলন্ত প্রাইভেট কার থেকে নেমে স্থানীয় বিএনপিকর্মী আলমগীর হোসেনকে (৪৫) লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালানো হয়। এতে লক্ষ্যভ্রষ্ট ও আকস্মিক পরিস্থিতিতে আলমগীরের পাশাপাশি জোৎস্না আক্তার নামের এক পথচারী নারীও গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে গুলিবিদ্ধ আলমগীর হোসেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, আহত পথচারী জোৎস্না প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেনের স্ত্রী বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত মো. রুবেল ওরফে ল্যাংড়া রুবেলকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়। মামলা দায়েরের পর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করে ডিবি পুলিশের মিরপুর বিভাগ। গোয়েন্দা জালে ফেলে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মূল হোতাসহ পাঁচজনকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্থানীয় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও পূর্ববিরোধের জের ধরে এই পরিকল্পিত হামলার ঘটনা ঘটে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং অপরাধ সিন্ডিকেট পরিচালনার সাথে এই চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অতীতেও এই চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং অপরাধচক্রের বাকি সদস্যদের খুঁজে বের করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।