রাজনীতি ডেস্ক
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দলটির গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মূল কারিগর হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই-সংগ্রাম এবং আপসহীন নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া বিএনপিকে একটি শক্তিশালী ও গণতান্ত্রিক গণসংগঠনে পরিণত করেছেন। তাঁর আদর্শ ও দিকনির্দেশনা ধারণ করেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় দলকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দিতে হবে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার অবদান ও আত্মত্যাগ অনস্বীকার্য। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিটি পর্বে তাঁর নেতৃত্ব জাতিকে পথ দেখিয়েছে। প্রতিকূল পরিবেশেও নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা, ত্যাগের মূল্যায়ন করা এবং কোনো প্রকার অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করার কারণেই দলটি তৃণমূল পর্যায়ে সুদৃঢ় ভিত্তি লাভ করেছে। দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি ছিলেন অবিচল।
তিনি আরও বলেন, দেশনেত্রীর দেখানো আদর্শিক পথ অনুসরণ করেই সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি যে ভবিষ্যৎমুখী উন্নয়ন ভাবনা ও রূপরেখা প্রণয়ন করেছিলেন, তা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব। জাতীয়তাবাদী শক্তিকে সুসংহত করে একটি কার্যকর ও দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তোলাই বর্তমান সময়ের প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দোয়া মাহফিল সঞ্চালনা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আহমদ আজম খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ দলের কেন্দ্রীয় ও অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা পর্ব শেষে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সদস্য সচিব মাওলানা অ্যাডভোকেট আবুল হোসেইন। মোনাজাতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ, শান্তি ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।