বাংলাদেশ ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের কোনো নাগরিক যেন অর্থাভাবে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যে সরকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সাধারণ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে যাতে বিদেশে যেতে না হয়, দেশের ভেতরেই সেই মানসম্মত চিকিৎসাব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। এছাড়া শিশুদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আগামী অক্টোবর মাসেই পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
শনিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের নবনির্মিত ৫০০ শয্যার ১৫ তলা ভবন উদ্বোধন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে নবনির্মিত আধুনিক ভবনটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনকালে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন তিনি। পরে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে নতুন ভবনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সূচনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব হলো নাগরিকদের মৌলিক অধিকারসমূহ সুনিশ্চিত করা, যার মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা অন্যতম। অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা যেন মানুষের চিকিৎসাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনো বাধা হতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সর্বাত্মক নীতি গ্রহণ করেছে। দেশের প্রান্তিক পর্যায় থেকে শুরু করে নগর এলাকা পর্যন্ত একটি সুসংহত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, জটিল ও বিশেষায়িত রোগের চিকিৎসার জন্য এখনও বহু মানুষকে অতিরিক্ত ব্যয়ভার বহন করে বিদেশে যেতে হয়। দেশের প্রতিটি বিশেষায়িত হাসপাতালকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা গেলে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা যেমন হ্রাস পাবে, তেমনি বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে সরকারের বিশেষ অগ্রাধিকার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামী অক্টোবর মাসেই পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল সাধারণ মানুষের সেবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকেরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্নায়ুরোগে আক্রান্ত রোগীদের উন্নত ও তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এই সম্প্রসারণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। নতুন ৫০০ শয্যা যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের মোট শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজারে উন্নীত হলো। এর ফলে হাসপাতালটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ পূর্ণাঙ্গ নিউরোসায়েন্সেস চিকিৎসাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে ১০ তলা বিশিষ্ট ভবনে ৩০০ শয্যা নিয়ে এই বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে স্নায়ুরোগীর ক্রমবর্ধমান চাপ ও সুচিকিৎসার চাহিদা বিবেচনায় আরও ২০০ শয্যা বৃদ্ধি করে মোট শয্যাসংখ্যা ৫০০-তে উন্নীত করা হয়েছিল। রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসাসেবা নির্বিঘ্ন রাখতে আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তিসম্পন্ন ১৫ তলাবিশিষ্ট নতুন এই সম্প্রসারিত ভবন নির্মাণ করা হয়, যা দেশের স্নায়ুরোগীদের চিকিৎসায় নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।