বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশের তৃণমূল পর্যায়ের শাসনব্যবস্থা গতিশীল ও সুসংহত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরেই চলতি অর্থবছরের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে নির্বাচন পরিচালনা বাবদ প্রয়োজনীয় ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকার সংস্থান জাতীয় বাজেটে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি মৌলভীবাজারে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময়কালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সরকারের এই নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের সকল সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ এবং নির্বাচন কমিশনের নীতি-নির্ধারকেরা একটি যৌথ সমন্বয় বৈঠকে বসবেন। ওই বৈঠকেই সার্বিক সক্ষমতা, ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও বর্ষপঞ্জি পর্যালোচনা করে কোন স্তরের নির্বাচন আগে এবং কোনটি পরে অনুষ্ঠিত হবে, তার রূপরেখা ও চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। তবে যেকোনো পরিস্থিতিতেই চলতি অর্থবছরের নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যেই এই পাঁচটি স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোয় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণের মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। তৃণমূল পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে নগর এলাকার সিটি করপোরেশন পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানগুলোর জনপ্রতিনিধিরা স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর তদারকি ও দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রমে সরাসরি ভূমিকা পালন করেন। বিভিন্ন মেয়াদে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ফলে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা রক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে গতিশীলতা ফেরাতে সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নির্বাচন পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সংস্থান প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, বিশাল এই কর্মযজ্ঞ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করতে যে ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে, তা ইতিমধ্যে রাষ্ট্রীয় বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে অর্থছাড় বা বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে নির্বাচনী প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সমাপ্ত করা সম্ভব হবে।
নির্বাচনী রূপরেখা ঘোষণার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থাপনার বিষয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ খাতের ওপর চাপ কমাতে এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে পর্যায়ক্রমে সব সরকারি ভবন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিতে একটি সুনির্দিষ্ট জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী ছয় মাস পর সংশ্লিষ্ট প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মাসিক বিদ্যুৎ বিল নিবিড়ভাবে পরীক্ষা ও নিরীক্ষা করা হবে। এর মাধ্যমে দপ্তরগুলো প্রকৃতপক্ষে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করছে কি না এবং জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পেয়েছে কি না, তা সরাসরি যাচাই করা হবে। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনো শৈথিল্য দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, একই অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করা প্রশাসনিক ও লজিস্টিক দিক থেকে অত্যন্ত বড় একটি চ্যালেঞ্জ। তবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন গতিশীলতা আনবে এবং নাগরিক সেবা প্রাপ্তি আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের উদ্যোগটি জাতীয় পর্যায়ে টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।