রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষে পরিচালিত নিয়মিত বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। একই সময়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন থানায় মোট ৪৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টার এই ধারাবাহিক অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকা ও সন্দেহভাজন স্থানগুলোতে তল্লাশি চালানো হয়। ডিএমপির বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগের সমন্বিত এই অভিযানে সর্বাধিক সংখ্যক ব্যক্তি মিরপুর বিভাগ থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
অভিযানের বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মিরপুর বিভাগে ১১৪ জন, মতিঝিল বিভাগে ৮৭ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৬৭ জন, উত্তরা বিভাগে ৫০ জন, ওয়ারী বিভাগে ৬৪ জন, লালবাগ বিভাগে ২৪ জন, রমনা বিভাগে ৩৪ জন, গুলশান বিভাগে ৩৩ জন, গোয়েন্দা বিভাগে ৮ জন এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগ ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
অভিযানকালে গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অপরাধমূলক কার্যক্রমে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৭ হাজার ৬৯৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৬৫ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা, ২২ লিটার ৫০০ মিলি বিদেশি মদ এবং ৯টি মাদক ইনজেকশন। এছাড়া মাদক বিক্রির নগদ ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
এর পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে ১টি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন, ১টি রিভলভার এবং ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। সহিংসতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা ১২টি হাসুয়া, ১টি চাকু, ১টি ছোরা, ১টি কাটার, ১টি বেসবল ব্যাট এবং ১টি ডাসা জব্দ করা হয়। অন্যান্য জব্দকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ৪টি মিউজিক সিস্টেম, ৫টি মোবাইল ফোন, ১৫৭টি সিম কার্ড, ৩টি মোটরসাইকেল এবং অপরাধে ব্যবহৃত ১টি সিএনজি চালিত অটোরিকশা।
পুলিশ সদরদপ্তর ও ডিএমপির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধ এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযานের অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামত এবং জব্দকৃত মাদক-অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যের জন্য গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় প্রচলিত আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।