শিক্ষা ডেস্ক
চলতি বছরের দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। এ বছর বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৬৮ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। পাসের হারের পাশাপাশি শীর্ষ ফলাফল বা জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও আগের বছরের তুলনায় কমেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। প্রকাশিত ফলাফলে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সার্বিক চিত্রে এই পতন লক্ষ্য করা গেছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় এই বোর্ডের অধীনে মোট ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮২ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯৭ জন শিক্ষার্থী। সে হিসেবে সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৬৮ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ, যার ফলে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ।
পাশাপাশি, জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পতন পরিলক্ষিত হয়েছে। চলতি বছর মাদ্রাসা বোর্ডে মোট জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ৬ হাজার ৭১৬ জন শিক্ষার্থী, যা মোট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর মাত্র ২ দশমিক ২৭ শতাংশ। আগের বছর অর্থাৎ ২০২৩ বা পূর্ববর্তী শিক্ষাবর্ষে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ৬৬ জন। এক বছরের ব্যবধানে এই বোর্ডে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২ হাজার ৩৫০ জন।
এদিকে ফলাফলের সার্বিক বিশ্লেষণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্যের চিত্রও উদ্বেগজনক উঠে এসেছে। চলতি বছর দেশব্যাপী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডসহ মোট ১১টি শিক্ষাবোর্ডের অধীন ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। এর মধ্যে কেবল মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনই রয়েছে ২২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখান থেকে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে সক্ষম হয়নি। গত কয়েক বছরের তুলনায় শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের এই সংখ্যা শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে ভাবনার উদ্রেক করেছে।
শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার এবং জিপিএ-৫ কমার পেছনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানের মান, নিয়মিত তদারকি এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও প্রস্তুতির ঘাটতি অন্যতম কারণ হতে পারে। বিশেষ করে দেশের শতাধিক মাদ্রাসায় একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে না পারার বিষয়টি গভীর উদ্বেগের বিষয়। এই ফলাফল পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মান উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা, যাতে আগামী দিনে শিক্ষার মান উন্নত হয় এবং পাসের হার কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করা যায়।