রাজনীতি ডেস্ক
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়-পরাজয় মুখ্য নয়, বরং দেশে প্রকৃত গণতান্ত্রিক চর্চা ও ধারা ফিরিয়ে আনতেই ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ১১ দলীয় জোটের ঘোষিত রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণভোটের রায় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করে রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে দ্বিচারিতা করা হয়েছে। নিশ্চিত পরাজয় জেনেও কেবল এই বিষয়টি এবং জনগণের প্রকৃত মতামত ও অধিকারের বিষয়টি জাতির সামনে তুলে ধরতে ১১ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হলে সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বাধীনভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেতেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অভিভাবক ও গুরুত্বপূর্ণ এই পদে যদি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন হয়, তবে তা সুস্থ গণতন্ত্রের পরিচায়ক হতে পারে না। সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকারের ওপর আরোপিত নিয়ন্ত্রণ ও সীমাবদ্ধতা থেকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে মুক্ত করার লক্ষ্যেই তাদের এই রাজনৈতিক উদ্যোগ।
এর আগে গত রোববার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য অপর একটি রাজনৈতিক দল তথা বিএনপির পক্ষ থেকেও নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়। তবে দলটির পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। এরপর আগামী ১৬ আগস্ট নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে জমা হওয়া মনোনয়নপত্রগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত। সব প্রক্রিয়া শেষে আগামী ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে নির্ধারিত নিয়মে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা এই নির্বাচনে ভোট প্রদান করবেন।