বিনোদন ডেস্ক
দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকার পর কয়েকদিনের বিরতিতে দেশে ফিরেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের বরেণ্য অভিনেতা ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে তার চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত পরবর্তী ধাপের চিকিৎসার প্রস্তুতি নিতে তিনি সাময়িকভাবে দেশে অবস্থান করছেন।
অভিনেতার দেশে ফেরার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিভিন্ন শিল্পী, কলাকুশলী ও শুভানুধ্যায়ীরা রাজধানীর গুলশানে তার বাসভবনে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং তার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। গত শনিবার রাতে তার গুলশানের বাসভবনে যান ঢাকাই চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত দুই গুণী অভিনেত্রী সুচন্দা ও চম্পা। এ সময় তাদের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র অভিনেতা সুব্রত, জ্যাকি আলমগীর, চলচ্চিত্র প্রযোজক খোরশেদ আলম এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির প্রতিনিধি দল। প্রিয় সহকর্মীকে দেখতে এসে তারা ফুল ও উপহারসামগ্রী দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং তার দীর্ঘায়ু ও দ্রুত পূর্ণাঙ্গ আরোগ্য কামনা করেন।
সাক্ষাৎকালে বরেণ্য এই তিন তারকার উপস্থিতিতে একটি হৃদ্যতাপূর্ণ ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অসুস্থতার ধকল ও দীর্ঘ প্রবাস জীবনের ক্লান্তি কাটিয়ে সহকর্মীদের সান্নিধ্যে অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন অত্যন্ত প্রাণবন্ত সময় কাটান। আলাপচারিতায় বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালী দিনের বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করা হয়। বিশেষ করে সুচন্দা প্রযোজিত দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘তিনকন্যা’ এবং কাঞ্চন ও চম্পা অভিনীত ‘অচেনা’ চলচ্চিত্রের বিভিন্ন স্মৃতি ও শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা রোমন্থন করেন তারা। এ সময় উপস্থিত সবার অনুরোধে ইলিয়াস কাঞ্চন ‘অচেনা’ চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় গান ‘আর যাব না আমেরিকা’ পরিবেশন করেন এবং তাতে দুই অভিনেত্রী সুচন্দা ও চম্পাও কণ্ঠ মিলিয়ে এক আবেগঘন মুহূর্তের জন্ম দেন।
পরিবার ও চিকিৎসাসূত্র জানিয়েছে, লন্ডনে দীর্ঘ ১৫ মাসের টানা চিকিৎসায় কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় শারীরিক উন্নতি না ঘটায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই পুনরায় বিদেশে ফিরে যেতে হবে। সেখানে তার পরবর্তী চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। বরেণ্য এই শিল্পীর অসুস্থতা ও বিদেশ যাত্রার খবরে দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমী ও তার ভক্তদের মাঝে উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তার অগণিত ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার দ্রুত রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে ইলিয়াস কাঞ্চন একটি অত্যন্ত সুপরিচিত ও শ্রদ্ধেয় নাম। সামাজিক ও রোমান্টিক ঘরানার বহু ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি দশকজুড়ে দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছেন। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশব্যাপী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তার অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে। তার এই সাময়িক দেশে ফেরা এবং সহকর্মীদের সঙ্গে এই আন্তরিক মেলবন্ধন দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।