রাজধানী ডেস্ক
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় দায়ের করা মামলায় গাজীপুর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামানকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১০ আগস্ট) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আরিফুল ইসলাম উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
এর আগে গত ৬ আগস্ট একই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার করা সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়েছিল। নির্ধারিত দিনে সোমবার সকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মুর্শেদ হোসেন শাহিন রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিন ও রিমান্ড বাতিলের প্রার্থনা করেন। উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি এবং মামলার নথিপত্র পর্যালোচনার পর আদালত তিন দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত বুধবার রাতে রাজধানীর গুলশানের একটি আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুন সকালে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ জন নেতাকর্মী একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। ওই মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বর্তমান সরকারবিরোধী নানা স্লোগান দেন এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটানোর জন্য এবং রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার জন্য ওই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছিলেন। এ ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা এবং রিমান্ডের আইনি প্রক্রিয়া দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে রিমান্ডকালীন জিজ্ঞাসাবাদে এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কারা জড়িত এবং এর নেপথ্যে কোনো সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছিল কি না, তা উদ্ঘাটন করতে সচেষ্ট থাকবে তদন্তকারী দল।