বিনোদন ডেস্ক
নেপালের পোখারার পাহাড়ি এলাকায় প্রাকৃতিক পরিবেশে শুরু হয়েছে চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস অভিনীত নতুন চলচ্চিত্র ‘শিকার’-এর শুটিং। কামরুজ্জামান রোমান পরিচালিত এবং রেজা ফিল্ম প্রযোজিত এই সিনেমাটিতে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের শিল্পী ও কলাকুশলীরা যৌথভাবে কাজ করছেন। প্রথম দফার এই দৃশ্যধারণে অংশ নিতে কুশীলবরা বর্তমানে নেপালে অবস্থান করছেন।
শুটিংয়ের আনুষ্ঠানিক শুরুর আগে নেপালে সিনেমাটির মহরত অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নিজস্ব সাংস্কৃতিক রীতি ও নিয়ম মেনে চলচ্চিত্রটির সফলতা ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অভিনেতা মুর্তজা পলাশ দোয়া পরিচালনা করেন এবং অভিনেতা শ্যাম ভট্টাচার্য ঐতিহ্য অনুযায়ী নারিকেল ভেঙে দৃশ্যধারণের শুভ সূচনা করেন। মহরত পর্ব শেষে নির্ধারিত লোকেশনগুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান কুশীলবরা।
এই চলচ্চিত্রে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন অপু বিশ্বাস, মুর্তজা পলাশ, বড়দা মিঠু, কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা রজতাভ দত্ত এবং শ্যাম ভট্টাচার্য। এর মাধ্যমে ছোট পর্দার পরিচিত মুখ মুর্তজা পলাশের বড় পর্দায় অভিষেক ঘটতে যাচ্ছে। বড় পর্দার প্রথম কাজের জন্য তিনি দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, সুদীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে ভিন্নধর্মী গল্প ও অভিনয়ের সুযোগ থাকায় এই চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। তিন দেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণে নির্মিত এই কাজটি দর্শকদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলবে বলে প্রযোজনা সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নেপালের বিভিন্ন দর্শনীয় ও পাহাড়ি লোকেশনে টানা প্রায় এক মাস ধরে চলচ্চিত্রটির প্রথম ধাপের দৃশ্যধারণ চলবে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পাহাড়ঘেরা মনোরম পরিবেশকে ক্যামেরাবন্দি করতে নেপালের বিভিন্ন প্রান্তের আউটডোর লোকেশন নির্বাচন করা হয়েছে। গল্প ও নির্মাণের বৈচিত্র্য মাথায় রেখে তিন দেশের কলাকুশলীদের সমন্বয়ে গঠিত এই আন্তর্জাতিক মানের কাজটি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
চলচ্চিত্রটির নির্মাণ কাজ শেষ করে পরবর্তী সময়ে সম্পাদনা ও সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে, সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে आगामी পবিত্র ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আজহার যেকোনো একটি উৎসবে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি দেশীয় চলচ্চিত্রের বাজারকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং দর্শকদের নতুন অভিজ্ঞতা দেবে বলে আশা করছেন চলচ্চিত্রবোদ্ধারা।