শিক্ষা ডেস্ক
চলতি বছর থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র কেবল পুনর্নিরীক্ষণ নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ পাবে শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে কোথাও কোনো ভুলত্রুটি বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তা সংশোধনে কার্যকর ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত বছরগুলোতে পরীক্ষার্থীরা ফল প্রকাশের পর খাতার ‘পুনর্নিরীক্ষণ’ বা শুধুমাত্র প্রাপ্ত নম্বর যোগফল যাচাইয়ের সুযোগ পেতেন। এতে উত্তরপত্রের ভেতরের মূল্যায়ন যাচাই করার কোনো সুযোগ ছিল না। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষা বোর্ডের ১৯৯৮ সালের প্রণীত আইন অনুযায়ী এতদিন উত্তরপত্র সরাসরি পুনর্নিরীক্ষণের কোনো আইনি সুযোগ বা বিধান ছিল না। বর্তমান শিক্ষা প্রশাসন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ওই আইন ও নিয়মে পরিবর্তন এনেছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব শিক্ষার্থী তাদের ফলাফল নিয়ে অসন্তুষ্ট থাকবে এবং পুনর্নিরীক্ষার জন্য আবেদন করবে, তাদের উত্তরপত্র সম্পূর্ণভাবে পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে। এর ফলে পরীক্ষকদের মূল্যায়নে কোনো ধরনের ভুলত্রুটি বা নম্বর প্রদানে অবহেলা থাকলে তা দ্রুত চিহ্নিত করে সংশোধন করা সম্ভব হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, এই নীতিগত পরিবর্তনের ফলে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আরও সুদৃঢ় হবে এবং মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের একটি বড় সীমাবদ্ধতা দূর হবে। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা ভালো প্রস্তুতি নেওয়া সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে পারে না এবং প্রচলিত নিয়মের কারণে খাতার ভেতরে সঠিকভাবে নম্বর দেওয়া হয়েছে কি না তা যাচাই করার সুযোগ থাকে না। নতুন ব্যবস্থায় এই আস্থার সংকট দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সোমবার প্রকাশিত চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে সারা দেশে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। এ বছর মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এর আগে গত বছর সারা দেশে গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী। তুলনামূলকভাবে এবারের পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। নতুন এই পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ চালু হওয়ায় যেসব শিক্ষার্থী সামান্যের জন্য কাঙ্ক্ষিত ফল বা জিপিএ থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে মনে করছে, তারা এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপকৃত হতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষা বিশ্লেষকরা।