শিক্ষা ডেস্ক
দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি—এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে ৫৭টিতে দাঁড়িয়েছে। গত বছর শূন্য পাসের হার বা শতভাগ ফেল করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৪৮টি। নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ দেরিতে প্রকাশিত ফলাফলে এই চিত্র উঠে এসেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬৪ দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ। এর মধ্যে ছাত্রীদের পাসের হার ৬৭ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং ছাত্রদের পাসের হার ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ৫৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষায় ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে।
শিক্ষাবার বোর্ডের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, গত ২১ এপ্রিল এসএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীন লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে এবং দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের পরীক্ষা শেষ হয় ২৪ মে। সাধারণত লিখিত পরীক্ষা সমাপ্ত হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করার প্রথা রয়েছে। সেই হিসাব অনুযায়ী গত ২০ জুলাই ফলাফল প্রকাশের কথা থাকলেও বিভিন্ন দাপ্তরিক ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পর এই ফলাফল ঘোষণা করা হলো।
ফলাফল প্রকাশের পর অসন্তুষ্ট বা প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। আগামী ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করা যাবে। আবেদন করার প্রক্রিয়া এবং এ সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হবে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি, সেগুলোর পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষকের সংকট এবং প্রাতিষ্ঠানিক মনিটরিং ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ফলাফল এড়ানো সম্ভব হয়।