বাংলাদেশ ডেস্ক
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর বর্তমানে দেশে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং গণমাধ্যম পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে। আজ রবিবার দুপুরে রংপুরে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চ্যারিটি সংস্থা লাভ শেয়ার বিডির আয়োজনে সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্পের আওতায় চা-ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাংবাদিকতা ও মত প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতা ছিল। বর্তমান সময়ে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে এবং সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন। বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত বিভিন্ন দমনপীড়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই শাসনকালে লাখ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা, হত্যা ও গুমের মতো ঘটনা ঘটেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে সেই ভীতি ও নিপীড়নের পরিবেশ আর নেই।
বিরোধী দলের সমালোচনার বিষয়ে মন্তব্য করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, একটি নির্বাচিত ও জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়নের জন্য যৌক্তিক সময় দেওয়া প্রয়োজন। সরকার পরিচালনায় কোনো ব্যর্থতা দেখা দিলে গঠনমূলক সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং জনগণের কল্যাণেই কাজ করে যাচ্ছে।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও জনজীবন প্রসঙ্গে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য পরিবহনের খরচ ও শিপিং চার্জ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি গ্যাস সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে এবং দ্রুতই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত পূর্বের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও নির্বাচনী এজেন্ডা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, কোনো পরিবারকে সাময়িক সহায়তা প্রদানের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদী আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন করা বেশি কার্যকর। ‘লাভ শেয়ার বিডি’র এই চা-ঘর হস্তান্তর প্রকল্প সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের নিজস্ব উপার্জনের পথ সুগম করবে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের উদ্যোগ দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তির ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুশফিকুল ফজল আনসারী। তিনি তার বক্তব্যে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং ক্ষমতাকে ব্যক্তিগত স্বার্থ বা অবৈধ অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, আয়োজক সংস্থার প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।