বাংলাদেশ ডেস্ক
আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার দুপুরে জোটের বৈঠক শেষে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ও দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি এবং দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন বলে জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন ধার্য করা হয়েছে। এরপর ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত দিনে একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যের গোপন ভোটে ২০ আগস্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন এই নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের সময় সংসদ সদস্যদের ভোটে আবদুর রহমান বিশ্বাস ও বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল। এরপর থেকে প্রায় সব রাষ্ট্রপতিই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছেন। বর্তমান জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিশ্লেষকদের মতে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর বিজয়ের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। তবে বিরোধী জোটের প্রার্থী দেওয়ার ফলে দীর্ঘ কাল পর দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।