আন্তর্জাতিক ডেস্ক
গাজা সিটির একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত আবাসিক ভবনের অবশিষ্টাংশ থেকে ১৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছেন। গাজার সিভিল ডিফেন্স বিভাগের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে স্থানীয় সময় শনিবার এই কার্যক্রমের সমাপ্তি টানা হয়। ভারী নির্মাণ সরঞ্জাম ও আধুনিক উদ্ধার যন্ত্রপাতির তীব্র সংকটের কারণে অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মরদেহ উদ্ধারের কাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
উদ্ধার অভিযানের দায়িত্বে নিয়োজিত সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু দান জানান, গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় অবস্থিত ‘কারাম’ নামক ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে টানা চার দিন ধরে তীব্র অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। এই অভিযান সমাপ্ত হওয়ার পর উদ্ধারকারী দল ও বিশেষায়িত চিকিৎসকদের একটি দল গাজা সিটির অন্য একটি লক্ষ্যভিত্তিক এলাকায় নতুন করে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করতে রওনা হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে অবরুদ্ধ এলাকায় যে মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে, এই উদ্ধার কার্যক্রম তারই একটি নিয়মিত চিত্র।
সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মহলে জানিয়ে আসছেন যে, অবরুদ্ধ উপত্যকায় প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা অত্যন্ত সাধারণ ও অপ্রতুল সরঞ্জাম ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। বুলডোজার বা এক্সকাভেটর ছাড়াই মূলত শারীরিক শ্রম এবং মৌলিক সরঞ্জামের সাহায্যে ভারী কংক্রিটের বিশাল স্তূপ সরাতে গিয়ে উদ্ধারকর্মীদের প্রতিদিন চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে। এর ফলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের জীবিত বা মৃত অবস্থায় খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া অত্যন্ত মন্থর হয়ে পড়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলমান সংঘাত ও বোমাবর্ষণের পর থেকে পুরো উপত্যকাজুড়ে এখনও প্রায় ৮ হাজারের বেশি মানুষ বিভিন্ন ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকাজ শ্লথ হওয়ায় এই নিখোঁজ ব্যক্তিদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে তাদের পরিবারগুলো। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত সমগ্র অঞ্চলে মোট নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজারের অধিক মানুষ।
এর আগে গত সপ্তাহে গাজা সিটিতে একটি বড় গণদাফন সম্পন্ন হয়, যেখানে আবু শরিয়া ও আল-হাসাইনা পরিবারের ১১২ জন সদস্যের মরদেহ সমাহিত করা হয়। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে বিমান হামলায় বিধ্বস্ত হওয়া সাবরা এলাকার একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ওই মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব এবং নিরাপত্তার সংকটের কারণে ওই মরদেহগুলো একসঙ্গে দাফন করা সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার অবরুদ্ধ অঞ্চলে জরুরি ভিত্তিতে মানবিক সহায়তা, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ভারী উদ্ধার যন্ত্রপাতি প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসলেও পরিস্থিতির আশানুরূপ কোনো উন্নতি হয়নি।