রাজধানী ডেস্ক
সরকারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার আলোকে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বর্তমান প্রশাসন বদ্ধপরিকর বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নদী ভাঙন রোধে কাজ করার ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না; দল-মতনির্বিশেষে নদীর তীরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণসহ সকল সুরক্ষামূলক কার্যক্রমে সবাই সমানভাবে উপকৃত হবেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই উন্নয়নের অংশ হিসেবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি কারিগরি কমিটি কাজ সম্পন্ন করেছে। পাশাপাশি, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন বন্ধুভাবাপন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ পরামর্শও গ্রহণ করা হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করার, যা উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের নদী ভাঙন ও বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে শনিবার সকাল ১১টার দিকে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নৌপথে দিনব্যাপী কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শনের কর্মসূচি শুরু করেন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, তিনি চিলমারীর কাঁচকোল বাঁধ এলাকা ছাড়াও উলিপুর উপজেলার নামাজের চর, রৌমারী উপজেলার সুখেরবাতী এবং রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি নদী ভাঙন কবলিত জনপদগুলো ঘুরে দেখেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় জিও ব্যাগ ডাম্পিং ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। দিনব্যাপী এই পরিদর্শন শেষে তার গাইবান্ধা জেলার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর এই পরিদর্শনের সময় স্থানীয় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুল আলম সালেহী, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি এবং কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। এছাড়া কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসানসহ স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে ভাঙন পরিস্থিতি ও গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
নদীমাতৃক বাংলাদেশে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ভাঙন একটি বড় মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট হিসেবে দেখা দেয়। কুড়িগ্রাম জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের কারণে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ ভিটেমাটি ও কৃষিজমি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হন। ভাঙনকবলিত এসব এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও নদী শাসনের দাবি দীর্ঘদিনের। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সমন্বিত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে নদী ভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর এই পরিদর্শন ও মাঠপর্যায়ে তদারকি স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ভাঙন রোধের নতুন আশার সঞ্চার করেছে।