1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
রাশিয়ায় ৩০ থেকে ৫০ হাজার নতুন সেনা মোতায়েন করতে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া ভূমি মন্ত্রণালয়ে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের আরও ৪০ কর্মকর্তার চাকরি ন্যস্ত এশিয়ার বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত: গ্রস রিজার্ভ ৩৬.৮৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হরমুজ প্রণালীতে নতুন নৌপথ নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে: ইরান ফারাক্কা চুক্তি নবায়ন ও পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, একাদশে ভর্তি ফি ও খরচ অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত, পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত

জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হলেই কেবল এই আন্দোলনের সার্থক পরিসমাপ্তি ঘটবে: ডা. শফিকুর রহমান

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ৬ বার দেখা হয়েছে
রাজনীতি ডেস্ক
জনগণের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার মাধ্যমেই জুলাই অভ্যুত্থানের পূর্ণ সার্থক পরিসমাপ্তি ঘটবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সেই কাঙ্ক্ষিত দিনটিতেই কেবল জুলাইয়ের আনুষ্ঠানিক ও কার্যকর সমাপ্তি আসবে।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক একটি স্থিরচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় এবং শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রদর্শনীটির মূল তাৎপর্য তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এই আয়োজনের উদ্দেশ্য বর্তমান সরকারের কোনো ধরনের সফলতা কিংবা কোনো সফল সরকারের গুণকীর্তন তুলে ধরা নয়। বরং যুগ যুগ ধরে রাষ্ট্রে যে ফ্যাসিবাদী, স্বৈরাচারী ও কর্তৃত্ববাদী শক্তি রাজত্ব করেছে এবং তাদের দমন-পীড়নে সাধারণ জনগণ যেভাবে নিগৃহীত ও অত্যাচারিত হয়েছে, সেই বাস্তব চিত্রই এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতির দীর্ঘ ত্যাগ, শহীদদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রত্যাশাগুলো জাতির সামনে উপস্থাপন করার জন্যই এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
ইতিহাসের ধারাবাহিকতা ও পর্যালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রদর্শনীতে বিগত বিভিন্ন আমলের স্বৈরাচারী শাসকদের চিত্র স্থান পেয়েছে। ৭ মার্চের ভাষণের পাশাপাশি ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং জিয়াউর রহমানের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইতিহাসে যার যার কল্যাণকর অবদান রয়েছে, তার প্রতি তারা গভীর শ্রদ্ধাশীল এবং এ বিষয়ে তারা সম্পূর্ণ নির্মোহ ও বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। এছাড়া তৎকালীন সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার আইনি লড়াই ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টিও এই তথ্যচিত্রে স্থান পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিগত সাড়ে ১৫ বছরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, এই দীর্ঘ সময়ে দেশের কোনো শ্রেণি-পেশা এবং ধর্ম-বর্ণের মানুষই ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের হাত থেকে রেহাই পায়নি। তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী নিজেদের দেশের প্রকৃত মালিক মনে করত এবং সাধারণ জনগণকে নিছক প্রজা হিসেবে গণ্য করে অত্যন্ত নিকৃষ্ট আচরণ করেছে। ২০০৯ সালে একটি সাজানো ও সমঝোতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসীন হয় দাবি করে তিনি বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ওই বছরের এপ্রিল মাসে পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাকে দুনিয়া থেকে বিদায় করার মধ্য দিয়েই তাদের রাজনৈতিক অপতৎপরতার সূচনা হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বিচার বিভাগ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ওপরও নজিরবিহীন নির্যাতন চালানো হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও সাজানো অভিযোগ এনে বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার বানানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। অধ্যাপক গোলাম আযম থেকে শুরু করে কাদের মোল্লাসহ দলটির ১১ জন শীর্ষ নেতাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি তৎকালীন প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের সঙ্গে সংঘাতের জেরে তৎকালীন সরকারের চাপের মুখে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল, যা দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে নজিরবিহীন। এছাড়া ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমসহ গুম হওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পেছনের ঘটনা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছাত্রদের যৌক্তিক আন্দোলন দমাতে তৎকালীন সরকার হেলমেট বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করেছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পুনরায় কোটা প্রথা ফিরিয়ে আনার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর প্রতারণা করা হয়, যার প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ ফুঁসে ওঠে। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার মধ্য দিয়ে এই জাগরণের সূচনা ঘটে বলে তিনি জানান।
তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করেন রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ও অভ্যুত্থানের অন্যতম আইকন শহীদ আবু সাঈদকে, যিনি বুক পেতে দিয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিলেন। এছাড়া ১৮ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড এবং ৫ আগস্ট সরকার পতনের আগের দিনগুলোতে ইন্টারনেট বন্ধ রেখে লাশ গায়েব ও আশুলিয়ায় ট্রাকে মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো লোমহর্ষক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান তিনি। বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতার চূড়ান্ত পর্যায়ে জনগণের তীব্র আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটে এবং দেশ ছাড়তে বাধ্য হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সৃষ্ট সাময়িক শূন্যতা পূরণে বর্তমানে দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালন করছে বলে জানান বিরোধীদলীয় নেতা।
s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026