অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে লেনদেন হওয়া চার কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সার্বিক সূচকের সামান্য নিম্নমুখিতা পরিলক্ষিত হয়েছে। আলোচ্য সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ১ শতাংশ বা ৩৫ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮৬১ পয়েন্টে নেমে এসেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সার্বিক বাজার মূল্যায়নে সূচকের এই পতন বড় কোনো ধস না হলেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা সতর্কতা বজায় রাখতে দেখা গেছে। তবে সূচক কিছুটা কমলেও এক্সচেঞ্জটিতে সামগ্রিক লেনদেনের গতি এবং দৈনিক গড় লেনদেন ইতিবাচক ধারায় ছিল।
বাজারের বিস্তারিত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রধান সূচকের পাশাপাশি ডিএসইর অন্যান্য সূচকও পতনের মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ২৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৯২ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহ শেষে ছিল ২ হাজার ২১৭ পয়েন্ট। অন্যদিকে, শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৮১ পয়েন্টে। সমাপ্ত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৮৯টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ারদর বেড়েছে ১৮৮টির, কমেছে ১৭৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২২টির। এছাড়া ২২টি কোম্পানির লেনদেন হয়নি। বাজার সংশ্নিষ্টরা বলছেন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক এবং ইউসিবি কোম্পানির শেয়ারের দাম কমার কারণে সার্বিক সূচক টানাপোড়েনের মুখে পড়ে।
সূচকের পতন ঘটলেও গত সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেনের পরিমাণে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। চার কার্যদিবসে এক্সচেঞ্জটিতে মোট ৪ হাজার ৭২৭ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর আগের সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। কার্যদিবস এক দিন কম হওয়ায় মোট লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কমলেও দৈনিক গড় লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে। আলোচ্য সপ্তাহে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ১৮২ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে, আগের সপ্তাহে যার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬০ কোটি টাকা। সে হিসেবে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কিছুটা সচল থাকার ইঙ্গিত দেয়।
খাতভিত্তিক লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল বস্ত্র খাতের শেয়ারের প্রতি। ডিএসইর মোট লেনদেনের ২২ দশমিক ১ শতাংশ দখল করে শীর্ষ অবস্থানে ছিল এই খাতটি। ১৪ শতাংশ লেনদেন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সাধারণ বিমা খাত এবং ১১ দশমিক ৫ শতাংশ লেনদেন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে অবস্থান করে ওষুধ ও রসায়ন খাত। এছাড়া প্রকৌশল খাত ৯ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মিউচুয়াল ফান্ড খাত ৬ দশমিক ৯ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে। খাতভিত্তিক রিটার্নের ক্ষেত্রে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৯ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। বিপরীতে, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ২ দশমিক ৮ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গত সপ্তাহে একই ধরনের নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই শূন্য দশমিক ২২ শতাংশ কমে ১৫ হাজার ৭২৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। পাশাপাশি সিএসসিএক্স সূচকটি শূন্য দশমিক ৩৭ শতাংশ কমে ৯ হাজার ৫৮১ পয়েন্টে নেমে এসেছে। সমাপ্ত সপ্তাহে সিএসইতে মোট ৮০ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৩২৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৭৯টির দর বেড়েছে, ১২৭টির দর কমেছে এবং ২৩টির শেয়ারদর অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পুঁজিবাজারের এই স্বল্পমেয়াদি fluctuations বা ওঠানামা মূলত বিনিয়োগকারীদের স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তোলার প্রবণতা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সামগ্রিক প্রভাবের ফল।