অপরাধ ডেস্ক
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত ও সমন্বিত অভিযানে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত সন্দেহে ৪৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এই সময়কালে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে মোট ৫০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে মাদকদ্রব্য, দেশীয় অস্ত্র, মোবাইল ফোন এবং নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের কার্যালয় থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এই অভিযান ও গ্রেপ্তারের সার্বিক তথ্য গণমাধ্যমকে জানান। ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, মহানগরীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও প্রত্যক্ষ অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে ঢাকার আটটি ক্রাইম বিভাগ এবং গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) একযোগে এই অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের বিভাগভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, মিরপুর বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া তেজগাঁও বিভাগে ৭৭ জন, মতিঝিল বিভাগে ৫৭ জন, গুলশান বিভাগে ৫৭ জন, উত্তরা বিভাগে ৪৯ জন, ওয়ারী বিভাগে ৪৬ জন, লালবাগ বিভাগে ৩৪ জন এবং রমনা বিভাগে ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিশেষ টিমগুলোর অভিযানে আরও ৯ জনকে আটক করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর এই সমন্বিত পদক্ষেপে রাজধানীর বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপরাধীদের তৎপরতা অনেকটাই সীমিত হয়ে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযান চলাকালে তল্লাশিতে গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে অপরাধে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র ও মালামাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত উপকরণের মধ্যে রয়েছে তিনটি চাকু, তিনটি লোহার পাইপ, একটি কাটার এবং একটি লোহার পাত। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এসব অস্ত্র রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, রাহাজানি ও আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতো। পাশাপাশি অবৈধ লেনদেনের প্রমাণ হিসেবে তাদের কাছ থেকে আটটি মোবাইল ফোন এবং নগদ এক লাখ চব্বিশ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মাদকদ্রব্য উদ্ধারের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। মহানগরীতে মাদকের বিস্তার রোধে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে চার হাজার ২৯৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৬১০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া এসব মাদকের চালান কোথা থেকে এসেছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও তদন্তকারী কর্মকর্তারা। মাদকের এই বিশাল চালান উদ্ধারের ঘটনায় রাজধানীর তরুণ সমাজকে রক্ষা এবং মাদক ব্যবসা সিন্ডিকেট ভাঙতে পুলিশের এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহানগরীর বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থান, মোড় ও জনবহুল এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ছিনতাই, ডাকাতি, রাহাজানি ও মাদক ব্যবসার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নির্মূলে নিয়মিত বিরতিতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নগরবাসীর নিরাপত্তা বিধানের স্বার্থে অপরাধ দমনে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।