বিশেষ প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা, দ্রুততম সময়ে ই-ভিসা ব্যবস্থা চালু এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে উভয় দেশ। একই সঙ্গে ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং দীর্ঘদিনের মধ্যস্থতাকারী বা দালালচক্রের দৌরাত্ম্য নিরসনে দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠককালে ভিসা প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন ছাড়াও বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), স্বাস্থ্যসেবা, কারিগরি শিক্ষা, শ্রমবাজার এবং জনগণের মধ্যকার পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উক্ত বৈঠকে রয়্যাল থাই দূতাবাসের কাউন্সেলর মোরাকোট উইরাওংফ্রমও উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় ভিসা জটিলতা নিরসনের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। বর্তমানে পর্যটন ও চিকিৎসার প্রয়োজনে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাগরিক থাইল্যান্ড ভ্রমণ করে থাকেন। ভ্রমণকারীদের সুবিধার্থে দ্রুততম সময়ে ই-ভিসা চালু এবং আবেদন জমা দেওয়ার পর সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে ভিসা নিশ্চিত করার ওপর দুই পক্ষই গুরুত্বারোপ করে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভিসা সংক্রান্ত দীর্ঘসূত্রতা হ্রাস পাবে এবং সাধারণ ভ্রমণকারীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকাংশে নিরসন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সেবার মান বৃদ্ধি এবং ভ্রমণ প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়েও কূটনৈতিক পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশি রোগীদের জন্য থাইল্যান্ডের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করতে থাই সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা হয়। স্বাস্থ্য খাতে দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগ বৃদ্ধি করা হলে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে থাইল্যান্ডগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের সময় ও বায় সংকুচিত হতে পারে। এ ছাড়া শ্রমবাজার ও কর্মী অভিবাসনের সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে আলোকপাত করা হয়। থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের জন্য বৈধ প্রক্রিয়ায় শ্রম অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে যৌথ কার্যপদ্ধতি প্রণয়নে উভয়পক্ষ আগ্রহ ব্যক্ত করেছে।
দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা হয়। থাই রাষ্ট্রদূত জানান, এ লক্ষ্য অর্জনে থাইল্যান্ডের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় মূল্যায়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। এফটিএ স্বাক্ষরিত হলে উভয় দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে এবং শুল্ক বাধা হ্রাস পেয়ে বিনিয়োগের নতুন পথ উন্মোচিত হতে পারে।
বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন খাতের কৌশলগত পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরা হয়। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে আনন্দময় শিক্ষণ পদ্ধতি, পাঠ্যক্রমে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সংযোজন, তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ এবং সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা নিশ্চিত করার গুরুত্ব সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করা হয়। আগামী ২০২৭ সালে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫ বছরপূর্তি পূর্ণ হতে যাচ্ছে। এই মাইলফলক উদযাপনে উভয় দেশ যৌথ সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক কর্মসূচি গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।