জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য প্রশাসকদের প্রফেশনাল ম্যানেজমেন্ট বা প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সাভারে প্রস্তুত থাকা ‘হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট’ দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। একই সাথে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকে (নিপসম) প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবার সার্বিক মানোন্নয়নে সকল ৩০ ও ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত নিপসম অডিটরিয়ামে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্ব খাতে পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রমের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত সরকারি স্বাস্থ্যসেবাকে তৃণমূলের জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বিদ্যমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ফলে শুধু চিকিৎসক পদায়নই যথেষ্ট নয়, প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকদের উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ প্রদান ব্যতীত কাঙ্ক্ষিত সরকারি সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ লক্ষ্য অর্জনে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য কাঠামোর সংস্কার ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিপসমের গবেষণার বস্তুনিষ্ঠতার প্রশংসা করা হয় অনুষ্ঠানে। সংগৃহীত বিশাল পরিমাণ স্বাস্থ্য তথ্য বা ‘ডেটা’ কেবল জাতীয় পর্যালোচনায় সীমাবদ্ধ না রেখে উপজেলা পর্যায়েই স্থানীয় স্বাস্থ্য পরিকল্পনা প্রণয়নে ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়। দেশে মানসম্পন্ন গবেষক তৈরির উদ্দেশ্যে পাবলিক মেডিকেল কলেজগুলোর আন্ডারগ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগ্রহী করতে নিপসমকে বিশেষ মেন্টরিং কর্মসূচি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের বাছাই করে ৩ থেকে ৬ মাসের জন্য বিশেষ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হলে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য খাতে মানসম্মত গবেষণা জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
স্বাস্থ্য খাতের এই নতুন উদ্যোগ ও পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য প্রশাসনে দীর্ঘদিনের দক্ষতাজনিত ঘাটতি দূর করতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসা সেবার পরিসর যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ লাভ করে প্রশাসকরা হাসপাতাল পরিচালনায় আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবেন।
নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানার সভাপতিত্বে আয়োজিত এই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও নিপসমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্য আলোচকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ এবং মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল।