বিশেষ প্রতিবেদক
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অতিরিক্ত বিলসংক্রান্ত বিষয়ে ঢালাও অভিযোগ না করে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদনের আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। একই সঙ্গে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অসত্য তথ্য প্রচার করলে দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিলে কোনো অসঙ্গতি বা অতিরিক্ত বিলের বিষয় পরিলক্ষিত হলে ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের প্রথমে নিকটস্থ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করা উচিত। কোনো স্থানে গ্রাহকের লিখিত অভিযোগ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অস্বীকৃতি জানালে কিংবা আবেদন জমা দেওয়ার পরও যথাযথ প্রতিকার না পাওয়া গেলে, সেই তথ্যও সুনির্দিষ্টভাবে সরকারকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইতিপূর্বে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিল সম্পর্কিত বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেগুলো যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের জ্বালানি মন্ত্রণালয় নাগরিকদের এই সংক্রান্ত সব সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখতে এবং সমাধান নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। অতিরিক্ত বিল নিয়ে ঢালাওভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্যত্র মন্তব্য না করে কোথায়, কখন এবং কী ধরনের প্রশাসনিক বা প্রযুক্তিগত ক্রুটি ঘটেছে, তার সুনির্দিষ্ট বিবরণ পেশ করা প্রয়োজন বলে তিনি জোর দেন।
এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের একটি সূত্রে জানা গেছে, সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে কোনো প্রমাণ ছাড়া জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি বা অসত্য তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মতো স্পর্শকাতর জনসেবামূলক খাতে সেবাগ্রহীতাদের অধিকার সুরক্ষা এবং সঠিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে সরকার। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাইপূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের এই প্রক্রিয়ায় সাধারণ গ্রাহকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।