1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ঘিরে জবি, ঢাকা কলেজ ও আলিয়া মাদরাসায় সংঘর্ষ, আহত বহু উপজেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাভারের ‘হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট’ দ্রুত চালুর ঘোষণা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সংবিধান সংশোধনে জুলাই সনদের আলোকে অংশীজনদের মতামত নেবে সংসদীয় কমিটি সংবিধান সংশোধনে জুলাই সনদের আলোকে অংশীজনদের মতামত নেবে সংসদীয় কমিটি থাইল্যান্ডের ই-ভিসা চালু ও স্বাস্থ্য-বাণিজ্যসহ বহুমুখী সহযোগিতা জোরদারে উদ্যোগ বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অতিরিক্ত বিলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেওয়ার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার দক্ষিণ এশিয়া ও আসিয়ানের কৌশলগত সেতুবন্ধন হিসেবে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জাতীয় পর্যায়ে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালনে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ টেকসই পানি ব্যবস্থাপনায় বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ শুনলেন প্রধানমন্ত্রী, সমন্বিত পদক্ষেপের আশ্বাস

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তীব্র পানিসংকটে চরম ঝুঁকিতে খাদ্য নিরাপত্তা: এডিবির তাগিদ

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৭ বার দেখা হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তীব্র পানিসংকট এবং নদী অববাহিকাগুলোর অবক্ষয়ের কারণে সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তা গভীর হুমকির মুখে পড়েছে। বিশ্বের অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যার আবাস্থল এই অঞ্চলে কৃষিতাত্ত্বিক সংকট নিরসন, পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি হ্রাসে অবিলম্বে সমন্বিত ও নদীভিত্তিক টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। মঙ্গলবার সংস্থাটির ঢাকা কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক সার্বিক প্রতিবেদনে এই সতর্কতা জারি করা হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ভৌগোলিক ও জনসংখ্যার বিচারে অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিশ্বের মোট চাষযোগ্য জমির মাত্র ৩০ শতাংশ এবং স্বাদু পানির মাত্র ২৮ শতাংশ ধারণ করে এই অঞ্চলের প্রায় চারশ কোটি মানুষের খাদ্যের সংস্থান করতে হয়। আন্তর্জাতিক এই আর্থিক সংস্থার তথ্যমতে, অঞ্চলটির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কৃষিজমি বর্তমানে তীব্র পানিসংকটের মুখোমুখি। বিশেষ করে এশিয়ার প্রধান খাদ্যশস্য ধান চাষে বিপুল পরিমাণ সেচের পানি ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ওপর অনিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে নদী ব্যবস্থার যেমন দূষণ ঘটছে, তেমনি আশঙ্কাজনক হারে উর্বরতা হারাচ্ছে কৃষিজমি।

এই সংকটে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব একটি নতুন এবং মারাত্মক মাত্রা যোগ করেছে। হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহগুলো আশঙ্কাজনক হারে গলে যাচ্ছে, যা এই অঞ্চলের প্রায় দুইশ কোটি মানুষের পানির প্রাথমিক উৎস হিসেবে কাজ করে। পরিবেশ ও জলবায়ু গবেষকদের আশঙ্কানুসারে, চলতি শতাব্দীর মধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমালয়ের এক-তৃতীয়াংশ হিমবাহ সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এর ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে নদীগুলোতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পেলেও দীর্ঘমেয়াদে শুষ্ক মৌসুমে দেখা দেবে চরম পানিসংকট। ইতোমধ্যে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা এবং দীর্ঘস্থায়ী খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ পাকিস্তানের নদী অববাহিকা থেকে শুরু করে ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সামগ্রিক কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

গত কয়েক দশকের কৃষি বিপ্লব ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এশিয়ায় অনাহার বা ক্ষুধার তীব্রতা কিছুটা কমলেও প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের ওপর এর দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর ক্ষতি সাধিত হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত উত্তোলনের কারণে পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। নদীদূষণ বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের উপকূলীয় অঞ্চলে তৈরি হচ্ছে অনূর্বর ও সামুদ্রিক জীবশূন্য ‘ডেড জোন’। অতিরিক্ত ক্যালরিনির্ভর খাদ্য উৎপাদনে অধিক জোর দেওয়ায় জনসংখ্যার সুষম পুষ্টির চাহিদাও ব্যাহত হচ্ছে। তদুপরি, দূষিত ও অপরিচ্ছন্ন পানির ব্যবহারের ফলে পানিবাহিত রোগের বিস্তার ঘটছে, যা শিশুদের পুষ্টি শোষণ ও স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধিতে চরম বাধা সৃষ্টি করছে।

এডিবি মনে করে, এই বহুমুখী সংকট কাটিয়ে উঠতে আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের বদলে সমন্বিত নদী অববাহিকা ভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। নির্দিষ্ট ভৌগোলিক বা রাজনৈতিক সীমানার বাইরে গিয়ে হিমালয়ের পার্বত্য এলাকা থেকে শুরু করে উপকূলীয় বদ্বীপ পর্যন্ত পুরো অববাহিকাজুড়ে পরিবেশ সুরক্ষা পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে উজানের পার্বত্য ও বনাঞ্চল সংরক্ষণ করা গেলে ভাটির অঞ্চলে আকস্মিক বন্যার প্রকোপ কমবে এবং নিয়মিত সেচব্যবস্থা বজায় রাখা সম্ভব হবে। পাশাপাশি পানিকে অবমূল্যায়ন না করে একটি মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় নীতি প্রণয়ন করা জরুরি, যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত অর্থনৈতিক ধাক্কা থেকে কৃষি ও শিল্প খাতকে সুরক্ষিত রাখা যায়।

খাদ্য উৎপাদন ও কৃষিতাত্ত্বিক ব্যবস্থায় টেকসই পরিবর্তন আনতে শুধুমাত্র উচ্চ ফলন অর্জনের নীতি থেকে সরে এসে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষাকারী ব্যবস্থার দিকে মনোনিবেশ করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। উদাহরণস্বরূপ, ড্রিপ ইরিগেশন বা বিন্দুকালীন সেচ পদ্ধতির প্রয়োগ বৃদ্ধি করা গেলে সেচের পানি অপচয় অন্তত ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে একক ধানভিত্তিক চাষাবাদের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা হ্রাস করে উচ্চমূল্যের শাকসবজি, ফলমূল ও বহুমুখী ফসল উৎপাদনে মনোযোগ দিলে কৃষকদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ হ্রাস পাবে। এই লক্ষ্য অর্জনে পানি, কৃষি, স্বাস্থ্য এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বিত নীতিমালার অধীনে যৌথভাবে কাজ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সেচ আধুনিকীকরণ, ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে প্রবাহ পর্যবেক্ষণ, জলবায়ু অভিযোজনমূলক বিনিয়োগ এবং পানি ব্যবস্থাপনায় নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া হয়েছে। নদীর পরিবেশগত স্থায়িত্ব রক্ষা করা কেবল পরিবেশ রক্ষা নয়, বরং সমগ্র এশিয়ার ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি জনপুষ্টি নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026