নিজস্ব প্রতিবেদক
মানিকগঞ্জের ঘিওর থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক ও হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি কাজী রফিকুল ইসলামকে (৫৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৩ আগস্ট) ভোরে ঢাকা মহানগরীর সিদ্ধেশ্বরী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে দুপুরে তাকে মানিকগঞ্জ আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত কাজী রফিকুল ইসলাম মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার সিংজুরী ইউনিয়নের নকীববাড়ী এলাকার বাসিন্দা।
মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুরে ঘিওর এলাকায় একটি শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং কর্মসূচিতে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের ওপর চড়াও হয়। এ হামলায় কয়েকজন গুরুতর আহত হন। উক্ত ঘটনার পর ঘিওর থানায় বিস্ফোরক ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে কাজী রফিকুল ইসলামকে অন্যতম এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘিওর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোক্তার হোসেন জানান, গ্রেপ্তার পরবর্তী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনার সাথে নিজের আংশিক সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু তথ্য তিনি গোপন করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, ঘটনার পেছনে মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্তকরণ এবং হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন। এ কারণেই আদালতে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডের লিখিত আবেদন পেশ করা হয়েছে।
এদিকে সোমবার দুপুরে আসামিকে মানিকগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করার সময় আদালত চত্বরে সাময়িক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ প্রহরায় আসামিকে আদালত ভবনে নেওয়ার পথে প্রাঙ্গণে অবস্থানরত উত্তেজিত জনতা তাকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করে এবং বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা। পরবর্তীতে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। রিমান্ড আবেদনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করবেন সংশ্লিষ্ট আদালত।