রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর উত্তরখান এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও জবাবদিহি চাইতে গেলে ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়েছে।
রবিবার (২ আগস্ট) সকালে উত্তরখান এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার সময় এ সংঘর্ষ ও হামলার সূচনা হয়।
ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকালে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানের সময় ডিএনসিসির কর্মীদের ওপর স্থানীয় একটি কারখানার শ্রমিক ও দুষ্কৃতকারীরা অতর্কিত হামলা চালায়। খবর পেয়ে ঘটনার কারণ জানতে এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জবাবদিহি আদায় করতে সেখানে উপস্থিত হন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টার এক পর্যায়ে কারখানা প্রাঙ্গণ থেকে একদল ব্যক্তি বেরিয়ে এসে প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।
এ হামলায় সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা আহত হলেও প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য অক্ষত রয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রশাসক ও এমপি মহোদয় স্থানীয়দের রোষানলে পড়েন। তাঁদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ে মারা হলেও তাঁরা শারীরিকভাবে আঘাত পাননি বা আহত হননি।
ঘটনার পরপরই আহত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন হাসপাতালে আহত কর্মীদের দেখতে যান। তিনি চিকিৎসাধীন কর্মীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
এ সময় কার্যালয়ের দায়িত্ব পালনকালে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন প্রশাসক। তিনি বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনকালে কর্মীদের ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের বাকবিতণ্ডা ও অসন্তোষ চলছিল। এর জের ধরেই রবিবারের এ অপ্রীতিকর ঘটনার উৎপত্তি হয়। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নগর বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার স্বার্থে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সরকারি সেবামূলক কাজে নিয়োজিত কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের এ ধরনের সহিংসতা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর ভূমিকা গ্রহণ এবং সিটি করপোরেশনের সঙ্গে স্থানীয়দের নিয়মিত যোগাযোগের ওপর জোর দিচ্ছেন তারা। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।