ঢাকা — জেলা প্রতিনিধি
রাজধানীর মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশন এলাকায় বোমা সদৃশ দুটি পরিত্যক্ত বস্তু পাওয়ার খবরে পথচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। তবে দীর্ঘ তল্লাশি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানা যায়, সন্দেহভাজন বস্তু দুটির মধ্যে কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা ক্ষতিকর উপাদান ছিল না।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি পরিত্যক্ত ব্যাগে বোমাসদৃশ বস্তু রয়েছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট দ্রুত সেখানে যায়। নিরাপত্তা নিশ্চিতের স্বার্থে পুরো এলাকাটি সাময়িকভাবে ঘিরে ফেলা হয়। পরবর্তীতে ডগ স্কোয়াড ও এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে ব্যাগটি পর্যবেক্ষণ করা হলে ভেতরে কৌটাসদৃশ বস্তুর উপস্থিতি ধরা পড়ে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা বিশেষ নিরাপত্তা বিধি অনুসরণ করে ‘ফ্র্যাঞ্জিবল ডিসরাপ্টর’ ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদে ব্যাগটি নিষ্ক্রিয় করা হয়। তবে নিষ্ক্রিয় করার পর ব্যাগটি ভেতরে পরীক্ষা করে দেখা যায়, তাতে সাধারণ জর্দার কৌটা ও পান রাখা ছিল। নিবিড় পরীক্ষার পর কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য না পাওয়ায় সাধারণ মানুষের আতঙ্ক দূরীভূত হয়।
অন্যদিকে, প্রায় একই সময়ে তেজগাঁও থানাধীন ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় আরেকটি পরিত্যক্ত বস্তাকে কেন্দ্র করে বোমার আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের বিশেষজ্ঞরা দ্রুত তেজগাঁও পৌঁছান এবং স্থানটি কর্ডন করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। সেখানে বিশেষ প্রযুক্তির পাশাপাশি ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা চালিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, বস্তুটিতেও কোনো বিপজ্জনক উপাদান নেই।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন ব্যবস্থা মেট্রোরেল এবং এর চারপাশের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা করা অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। এই ধরনের ঘটনা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তাৎক্ষণিক তৎপরতা ও প্রস্তুত থাকার বিষয়টি প্রমাণ করলেও, ব্যস্ত জনবহুল স্থানে কোনো সাধারণ বস্তু ফেলে রাখা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো নাগরিক জীবনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে যেকোনো সন্দেহজনক বস্তুর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি এড়াতে মেট্রোরেল ও এর আশপাশের নিরাপত্তা নজরদারি আরও বাড়ানো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।