বিশেষ প্রতিবেদক
প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। ‘তথ্য-প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।
রবিবার (২ আগস্ট) বগুড়ার মম ইন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সমন্বিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় পরিচালিত এই নতুন সময়োপযোগী উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের তরুণদের বিশ্বমানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশের যুবসমাজকে আগামী দিনের প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত করতে কাজ করছে সরকার। এ বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ফলে নতুন কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে তিনি বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে আন্তর্জাতিক মানের ১০টি স্পোর্টস ভিলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে দেশের ৬৪টি জেলা থেকে যোগ্যতার ভিত্তিতে ১ হাজার ৬০০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সারা দেশে মোট ৪৪৮টি ব্যাচ গঠন করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি ব্যাচে ২৫ জন করে অংশ নেবেন। দুই মাস মেয়াদি এই কোর্সে ৫০টি ক্লাসের মাধ্যমে মোট ৩০০ ঘণ্টার নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম জানান, এআই ভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণে আধুনিক বিভিন্ন এআই টুলের বাস্তবমুখী প্রয়োগ শেখানো হবে, যা প্রশিক্ষণার্থীদের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক আউটসোর্সিং বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরিতে সাহায্য করবে।
উদ্বোধনী পর্বে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব-উল-আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সরাসরি ও ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। বক্তারা উল্লেখ করেন, স্থানীয় থেকে জাতীয়—প্রতিটি পর্যায়ে প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পারলে তা কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষ অবদান রাখবে। সমাপনী আয়োজনে ফ্রিল্যান্সিং প্রকল্পে বিভাগীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ আয়কারী আটজন ফ্রিল্যান্সারের হাতে ল্যাপটপ এবং ২৪ জন সফল ফ্রিল্যান্সারকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং জেলা পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি দেশের ৬৪টি জেলা থেকে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও সমন্বয়কারীসহ প্রায় দুই হাজার তরুণ ভার্চুয়ালি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বর্তমান বিশ্ববাজারের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশেষ গতি সঞ্চার করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।