1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
তরুণ উদ্ভাবকরাই দেশের ভবিষ্যৎ, এমআইএসটির বিশ্বজয়ী দলকে প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রবাহের সুরক্ষায় মিডিয়া কমিশন গঠন ও প্রেস আইন সংশোধনের উদ্যোগ যৌতুক ও মাদক প্রতিরোধে পরিবার থেকেই সচেতনতা তৈরির তাগিদ রাজনীতিতে অশালীন ভাষা ব্যবহার সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থী: রিজভী মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বললেন সৌদি যুবরাজ বেসরকারি মাদরাসায় বড় সিদ্ধান্ত, অ্যাডহক কমিটি বাতিল পাইপলাইনে মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব বাংলাদেশের বানারীপাড়ায় ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ দেশজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ‘গুলশানের চামেলি’ চলচ্চিত্রে বাঁধন: সমালোচনার জবাব ও অবস্থান স্পষ্ট

পাইপলাইনে মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব বাংলাদেশের

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং দেশের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট সমাধানের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রবিবার সকালে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত এইচ ই ইউ কিয়াও সোয়ে মোয়ে এক সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হন। এ বৈঠকেই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাইপলাইন স্থাপন ও গ্যাস আমদানির প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়।

বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের শিল্প খাত, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং অভ্যন্তরীণ বাজার সুরক্ষিত রাখতে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রয়োজন। এ চাহিদা মেটাতে নিকট প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানি একটি কার্যকর ও সাশ্রয়ী সমাধান হতে পারে। এর জবাবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত এ প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে জানান, সীমান্ত পেরিয়ে পাইপলাইন নির্মাণের পাশাপাশি এলএনজি আকারে বাংলাদেশ রূপান্তরযোগ্য গ্যাস সরবরাহ করতেও তার দেশ আগ্রহী। দুই দেশের কারিগরি টিম বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে এর সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আলোচনায় চট্টগ্রাম অঞ্চলকে সংযোগ বিন্দু ধরে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত একটি আন্তর্জাতিক গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের অতীতের কিছু প্রস্তাব ও সমীক্ষাকে নতুন করে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। জ্বালানি খাতের এ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরো এক ধাপ এগিয়ে নিতে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের আহ্বান জানান ইকবাল হাসান মাহমুদ। এ উদ্দেশ্যে তিনি মিয়ানমারের জ্বালানিমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং দ্বিপক্ষীয় স্বার্থে প্রয়োজনে নিজেও মিয়ানমার সফরে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। জ্বালানিমন্ত্রী সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া চীন সফরে উত্থাপিত ‘চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ’ ত্রিপক্ষীয় অর্থনৈতিক করিডর গঠনের বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তিন দেশের মধ্যে এ ধরনের ভৌগোলিক ও বাণিজ্যিক করিডর বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রস্তাবিত গ্যাস পাইপলাইন একটি কৌশলগত অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে। এতে করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম স্তম্ভ হচ্ছে ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতি। এ নীতির আলোকে ঢাকার পক্ষ থেকে নেপিদোর সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বহুমাত্রিক রূপ দেওয়ার আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মিয়ানমারের সাথে বাণিজ্য, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রগুলোতে একযোগে কাজ করার বহু সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র রয়েছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত এইচ ই ইউ কিয়াও সোয়ে মোয়ে জানান, প্রস্তাবিত জ্বালানি কাঠামোর বিস্তারিত খতিয়ে দেখতে আগামী দিনে বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথ কারিগরি কমিটির (জেটিসি) বৈঠক আহ্বান করা যেতে পারে। সেখানেই পাইপলাইনের রুট, গ্যাসর পরিমাপ এবং আর্থিক বিষয়াদি পর্যালোচনা করা সম্ভব হবে।

উচ্চপর্যায়ের এ বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ উদ্যোগ চূড়ান্ত রূপ পেলে দেশে চলমান গ্যাসের ঘাটতি অনেকাংশে নিরসন হবে। একই সঙ্গে এটি বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতি জোরদারে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026