নিজস্ব প্রতিবেদক
তরুণ উদ্ভাবকদের দেশের ভবিষ্যৎ হিসেবে আখ্যায়িত করে তাঁদের গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও স্টার্টআপ উদ্যোগে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আন্ডারওয়াটার রোবোটিক ড্রোন নির্মাণ প্রতিযোগিতায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) শিক্ষার্থী দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
আজ রোববার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এমআইএসটির ‘মিস্ট ম্যাভিরভ’ দলের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
বৈঠকে বিশ্বজয়ী তরুণদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তরুণ শিক্ষার্থীদের এমন অসাধারণ সাফল্য দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে উদ্ভাবক, গবেষক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি আশ্বাস দেন, তরুণরা প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ গড়ে তুলতে চাইলে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁদের প্রয়োজনীয় সব সহায়তা প্রদান করা হবে।
সাক্ষাৎকালে এমআইএসটির শিক্ষার্থীরা তাঁদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বিশ্বজয়ী আন্ডারওয়াটার রোবটটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে প্রদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী আগ্রহ নিয়ে রোবটটির নকশা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পর দেশেই প্রযুক্তি খাতে কাজ করা ও স্বাবলম্বী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের প্রশংসনীয় এই উদ্যোগের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে রোবটটির অধিকতর মান উন্নয়ন, বাণিজ্যিকীকরণ এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত রাখার কথা জানান।
দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী জানান, একক শিল্পনির্ভরতা কমিয়ে বহুমুখী রপ্তানি অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, ওষুধ শিল্প, আসবাবপত্র ও প্রসাধন সামগ্রীর মতো উদীয়মান খাতগুলোকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বিশ্বমানের দক্ষ জনশক্তি তৈরির উদ্যোগ গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশি সেমিকন্ডাক্টর বিশেষজ্ঞদের দেশে ফিরে স্বদেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত বিকাশে অবদান রাখার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত ২৩ থেকে ২৯ জুন কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডরে আয়োজিত ‘মেট আরওভি ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারওয়াটার রোবট কম্পিটিশন ২০২৬’-এ বিশ্বের ১৮টি দেশের ৮৮টি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শীর্ষ স্থান অর্জন করে বাংলাদেশ মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) দল ‘মিস্ট ম্যাভিরভ’। এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র রানার্স-আপ এবং আয়োজক দেশ কানাডা তৃতীয় স্থান অর্জন করে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সৌজন্য সাক্ষাতকালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম, এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিজয়ী শিক্ষার্থী দলের ১০ জন প্রতিনিধি।