সারাদেশ ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদির মধ্যকার সাম্প্রতিক বৈঠক নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে সরকারের সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
শনিবার (২ আগস্ট) সিলেটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়টিতে আলোকপাত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম গণতান্ত্রিক দেশে এ ধরনের বৈঠক প্রটোকলগত দিক থেকে প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, যদি উক্ত বৈঠকটি নিছক কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়ে থাকে, তবে তা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু যদি সেখানে দুটি নির্দিষ্ট দেশের নীতিগত, দ্বিপক্ষীয় কিংবা আঞ্চলিক কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকে, তবে সেই ধরনের আলোচনা বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমেই সম্পন্ন হওয়া উচিত ছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক যেকোনা দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত সার্বভৌম রাষ্ট্রের নির্বাচিত সরকার অথবা প্রপ্রোজড ফোরামে দেশের বিরোধী দলের উপস্থিতি।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার আগে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দানকালে বিরোধীদলীয় নেতা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা প্রসঙ্গে একাধিক বিষয়ে উদ্বেগ ব্যক্ত করেন। সরকার কর্তৃক নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন বা পদায়নের প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ক্ষুন্ন করে অবসরপ্রাপ্ত একজন দলীয় ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বিগত নির্বাচনগুলোর ধারাবাহিকতা এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে এ ধরনের বিতর্কিত পদায়ন আগামী দিনের নির্বাচন ব্যবস্থা এবং সরকারের সদিচ্ছাকে জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে হলে নির্বাচন কমিশনকে সর্বপ্রকার বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা আবশ্যক বলে তিনি জোর দাবি জানান।
বক্তব্যে তিনি বর্তমান সরকারের সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ও দেশের সামগ্রিক সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেন। দেশে বিদ্যমান যেকোনো ধরনের দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অনিয়ম দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতাসীন দলের প্রধান হিসেবে নিজের দলকে সুশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও সুশাসন নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব সরকারের ওপরই বর্তায়। সার্বিক দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধে অবিলম্বে কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়াও দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তনের সমালোচনা করে জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বিশেষ করে গণভোটের বিষয়ে দলটি পূর্বে একাত্মতা প্রকাশ করলেও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর তাদের সেই আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশে বিদ্যমান কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড, নির্বাচন কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা এবং সংসদীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার এই বক্তব্যসমূহ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামী দিনে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও জাতীয় ইস্যুতে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক অবস্থান কীভাবে নির্ধারিত হয়, সেটিই এখন পর্যবেক্ষকদের মূল দেখার বিষয়।