অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-কে আরও লাভজনক, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে নির্দেশ দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় নগদের প্রতি মানুষের আস্থা রয়েছে। সেবার মান, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জবাবদিহিতা বাড়িয়ে সেই আস্থার প্রতিদান দিতে হবে।
আজ বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওস্থ ডাক ভবনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নগদ কর্তৃক ডাক অধিদপ্তরকে রাজস্ব আয় হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে নগদ কর্তৃক ডাক অধিদপ্তরকে ১৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকার রাজস্ব আয়ের চেক হস্তান্তর করা হয়।
নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলکিস জাহান রিমী এবং ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম।
মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, প্রযুক্তি তখনই অর্থবহ হয়, যখন তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়। ডাক বিভাগের প্রায় নয় হাজারের বেশি পোস্ট অফিসকে আধুনিকায়নের চিন্তাভাবনা চলছে। নগদের কিছু কার্যক্রম নিয়ে সৃষ্ট নেতিবাচক ধারণা কাটাতে মনিটরিং জোরদার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে সংক্রান্ত গুঞ্জন নাকচ করে সঠিক তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানান। চলতি বছরে নগদ সরকারকে ভ্যাট ও ট্যাক্স বাবদ প্রায় ৩১৩ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সচিব বিলকিস জাহান রিমী বলেন, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বর্তমান সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি জানান, ২০১৮ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত নগদ ডাক বিভাগকে ১৩ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছিল, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৪ কোটি টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেড়ে ১৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম জানান, যাত্রা শুরুর পর থেকে নগদ এ পর্যন্ত ভ্যাট-ট্যাক্স বাবদ সরকারকে ৯৪৬ কোটি টাকা এবং রাজস্ব ভাগাভাগি বাবদ ৪৭ কোটি টাকাসহ মোট প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে।
নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে প্রশাসক নিয়োগের পর নতুন বিনিয়োগ ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি স্বাভাবিক গতিতে চলছে। বর্তমানে প্রতি মাসে ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হচ্ছে এবং এর সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা ৩ কোটির বেশি। তবে সফটওয়্যার আধুনিকায়ন ও বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি জানান।