আইন আদালত ডেস্ক
রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর (শো-অ্যারেস্ট) আবেদন করেছে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেন আবেদনটি গ্রহণ করে আগামীকাল বৃহস্পতিবার এর শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গ্রেপ্তার দেখানোর এ আবেদনটি দায়ের করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক হেলাল উদ্দিন আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিচারক শুনানির জন্য নির্ধারিত দিন ধার্য করেছেন এবং আদেশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
আদালতে পেশ করা পুলিশের আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে উক্ত ঘটনার সঙ্গে নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর সম্পৃক্ততার প্রাথমিক সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি বর্তমানে অন্য একটি মামলায় ইতিমধ্যে কারাগারে আটক রয়েছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে এই হত্যাচেষ্টা মামলায়ও গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন বলে পুলিশ আবেদনে উল্লেখ করে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন রবীন্দ্র সরণি এলাকায় মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বিরসহ ছাত্র-জনতা অবস্থান নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সে সময় একদল সশস্ত্র ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অতর্কিতে গুলি বর্ষণ করে। এতে মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির বাঁ হাতের কনুইয়ে গুলিবিদ্ধ হন এবং গুলিটি অপর পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। এ ঘটনায় আরও একাধিক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে সাব্বিরকে স্থানীয় উত্তরা হাইকেয়ার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং অবস্থার অবনতি হলে তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসা শেষে তিনি বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসভবন থেকে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ সাবেক উপাচার্য কলিমুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। ওই দিনই আদালতে উপস্থাপন করা হলে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর পর থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে কারাগারে আটক আছেন।
অন্য এক মামলায় সম্প্রতি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজের অর্থ আত্মসাতের দায়ে অভিযুক্ত কলিমুল্লাহর জামিননামা আদালতে দাখিল করা হয়। সেখানে এক লাখ টাকা মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে আদালত তাকে জামিন প্রদান করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দাবি অনুযায়ী, অর্থ আত্মসাতের মামলায় শর্ত পূরণ হওয়ায় তার কারামুক্তিতে আইনগত বাধা ছিল না। তবে উত্তরা পশ্চিম থানার এ নতুন হত্যাচেষ্টা মামলায় পুলিশ গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করায় এবং আদালত শুনানির দিন ধার্য করায় তার কারামুক্তি আপাতত স্থগিত থাকছে। আদালতের আগামীকালের শুনানির ওপরই নির্ভর করছে এ মামলায় তার আইনি অবস্থান।