বাংলাদেশ ডেস্ক
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হোংবো দুই দিনের সরকারি সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন। রবিবার সকালে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মহাপরিচালকের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সফরকালে তিনি আজ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া সোমবার তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বলে সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই দ্বিপাক্ষিক সফরে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের বিদ্যমান পরিস্থিতি, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা, কর্মপরিবেশের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান নিশ্চিতকরণসহ নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ড পরিপালন এবং শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা বলয় জোরদার করার বিষয়গুলো আলোচনায় প্রাধান্য পাবে। এছাড়া কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হতে পারে।
আইএলও মহাপরিচালকের এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন বাংলাদেশ শ্রম সংস্কার ও শিল্প খাতে টেকসই উন্নয়নের পথে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ও সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও আইএলওর মধ্যকার সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গিলবার্ট এফ. হোংবো পশ্চিম আফ্রিকার দেশ টোগোর নাগরিক। ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে তিনি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ১১তম মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আইএলওর দীর্ঘ শতবর্ষের ইতিহাসে তিনিই প্রথম আফ্রিকান নাগরিক যিনি সংস্থাটির সর্বোচ্চ পদে আসীন হয়েছেন। কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও উন্নয়ন সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ আইএলওর সক্রিয় সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সংস্থাটির কনভেনশন ও নীতিমালাগুলো বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। শ্রম আইন সংশোধন, ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রম সহজীকরণ এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আইএলও বাংলাদেশের বিভিন্ন সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডে কারিগরি সহায়তা প্রদান করে আসছে। মহাপরিচালকের এই সফর বাংলাদেশের শ্রম খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী শিল্পের প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রত্যাশা করছেন।
সফর শেষে মহাপরিচালকের সফরসূচি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আলোচনার পর একটি যৌথ রূপরেখা বা পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের বিষয়েও দিকনির্দেশনা আসতে পারে। বাংলাদেশের সামগ্রিক শ্রম পরিবেশের উন্নয়ন এবং বিশ্ববাজারে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে এই উচ্চপর্যায়ের সফর বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান বিশেষজ্ঞরা।