রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালে সংঘটিত ঘটনাবলী এবং এর পরবর্তী সময়ে নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে নতুন করে তদন্তের দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। রবিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে শাপলা চত্বরের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনের অগ্রগতি ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার পর সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক সাংবাদিকদের সামনে এ বক্তব্য তুলে ধরেন।
তদন্তাধীন থাকা মামলার বিষয়ে মামুনুল হক বলেন, শাপলা চত্বরে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা সরকারিভাবে সংগৃহীত তালিকার চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনার পর থেকে অনেক পরিবার তাদের স্বজনদের খুঁজে পায়নি। রাষ্ট্রীয়ভাবে মরদেহ গুম করার চেষ্টার ফলে অনেক শহীদের কোনো হদিস মেলেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওই মহাসমাবেশে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন। শিক্ষার্থী, শ্রমিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন, যা আন্দোলনটিকে একটি সর্বজনীন রূপ দিয়েছিল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কার্যক্রম প্রসঙ্গে এই হেফাজত নেতা জানান, বর্তমানে যে খসড়া প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তা নিয়ে তারা বিস্তারিত পর্যালোচনা করছেন। তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত খসড়া প্রতিবেদনটি বিস্তারিত দেখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেখার পর তাতে কিছু সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে বলে আমরা মনে করছি। আগামী এক-দুদিনের মধ্যে আমরা আমাদের পর্যবেক্ষণগুলো প্রসিকিউশনকে অবহিত করব। এরপরই বলা সম্ভব হবে আমরা কতটুকু সন্তুষ্ট।”
মামলাটির বর্তমান আইনি অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, বিষয়টি যেহেতু বর্তমানে তদন্তাধীন পর্যায়ে রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতে কোনো প্রতিবেদন এখনো দাখিল হয়নি, তাই সব তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে তাদের পক্ষ থেকে আগে যে অভিযোগগুলো উত্থাপন করা হয়েছিল, বর্তমান খসড়া প্রতিবেদন সেগুলোর কাছাকাছি রয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন।
উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর এলাকায় হেফাজতে ইসলামের অবস্থান এবং পরবর্তী পুলিশের অভিযানের ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানির অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার বিচার ও তদন্ত চেয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মহল থেকে দাবি জানানো হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ সংক্রান্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্টদের সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরণের ঐতিহাসিক ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অধীনে তদন্তাধীন, তাই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা উন্মোচিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। মামলার কার্যক্রম কতদূর অগ্রসর হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই প্রতিবেদন আদালত কর্তৃক গৃহীত হলে তার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল রয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রসিকিউশন যখন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদন দাখিল করবে, তখন শাপলা চত্বরের ঘটনাবলীর বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আইনি চিত্র পাওয়া সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।