বাংলাদেশ ডেস্ক
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীনস্থ সকল সরকারি কলেজ ও দপ্তরে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের সৃজিত পদসমূহ ক্যাডার কম্পোজিশনের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করা এবং ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পদায়ন প্রক্রিয়া সুসংহত করার লক্ষ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে শিক্ষা প্রশাসন।
সম্প্রতি মাউশি অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে প্রণীত জাতীয়করণ বিধির আওতাভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বাদে মাউশি অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন সকল সরকারি কলেজ ও দপ্তরে ‘এনাম কমিটি’র সুপারিশ বাস্তবায়নের পর যে সকল নতুন পদ সৃজন করা হয়েছে, তা বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কম্পোজিশনে যুক্ত করা হবে।
বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কম্পোজিশন হলো এমন একটি কাঠামো, যার মাধ্যমে ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তাদের পদের বিন্যাস, পদোন্নতির সোপান এবং দায়িত্বের পরিধি নির্ধারিত হয়। নতুন পদসমূহ এই কম্পোজিশনে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হয়। নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পদসমূহ অন্তর্ভুক্তকরণের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে মাউশি অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি কলেজ ও দপ্তরের অধ্যক্ষ ও প্রধানদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্যাদি তলব করেছে। আদেশে একটি নির্ধারিত ছক অনুসরণ করে তথ্য প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিত ছকে পদের নাম, সংখ্যা, বর্তমান পদায়ন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্যাদি অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য আগামী ২১ জুলাই সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্যসমূহ dshepostcreation@gmail.com ই-মেইলে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, এর আগেও গত ১৬ মার্চ ক্যাডার কম্পোজিশনভুক্তকরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি চাওয়া হয়েছিল। যেসব সরকারি কলেজ বা দপ্তর সেই সময় তথ্য পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওইসব প্রতিষ্ঠানকে আগামী ২১ জুলাইয়ের মধ্যে হার্ডকপি সরাসরি মাউশি অধিদপ্তরের প্রথম ব্লকের ৫৩০ নম্বর কক্ষে উপ-পরিচালক (এইচআরএম) বরাবর জমা দিতে বলা হয়েছে।
শিক্ষা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ক্যাডার কম্পোজিশন হালনাগাদ করার এ বিষয়টি দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। এনাম কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পদ সৃজিত হলেও প্রশাসনিক জটিলতায় তা ক্যাডার কম্পোজিশনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট পদগুলো অন্তর্ভুক্ত হলে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতির পথ সুগম হবে এবং পদায়ন প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। এই প্রক্রিয়াটি কার্যকরভাবে সম্পন্ন করার জন্য মাউশি অধিদপ্তর কঠোর নজরদারি বজায় রাখছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকল তথ্য পাওয়ার পর পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হবে বলে অধিদপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে।