স্বাস্থ্য ডেস্ক
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫১ জন শিশু হাম বা হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে। রবিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৯৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৫ জন শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গজনিত জটিলতায় এই চার মাসে মোট ৭৮৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
গত ২৪ ঘণ্টার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়েছে ১১৩ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৯৩৮ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম আক্রান্ত ও উপসর্গ থাকা শিশুদের চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৮৮ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসা শেষে ৯৯২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত দেশে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৪৮ জনে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৪ হাজার ৪৩১ জন। এই দীর্ঘ সময়ে মোট ১ লাখ ১৩৭ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা রোগীর সংখ্যা ৯৬ হাজার ৫২১ জন।
উল্লেখ্য যে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক সময়ে টিকার প্রয়োগ এবং আক্রান্ত শিশুদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই রোগের বিস্তার রোধ করা সম্ভব। বিশেষ করে হামের উপসর্গের পাশাপাশি নিউমোনিয়া বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিলে শিশুদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হাম নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে টিকাদান কর্মসূচির পরিধি আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। আক্রান্ত শিশুদের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আক্রান্ত শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদানের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। রোগটির বিস্তার রোধে এবং মৃত্যুহার কমাতে সরকারি উদ্যোগে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালানো হচ্ছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সুস্থতার হার সন্তোষজনক হলেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।