সারাদেশ ডেস্ক
সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তায় সরকারি ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার দুপুরে মহালছড়ির চৌংড়াছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ এবং যন্ত্রনাথ কার্বারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চারশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী হস্তান্তর করা হয়। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জানমাল রক্ষা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্ভোগ লাঘবে বর্তমান সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এ সময় তিনি জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এক হাজার তিনশ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিতরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত সরকারি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, দুর্যোগপ্রভাবিত এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য ওএমএস কর্মসূচির আওতায় ৩০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১৫ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিশেষ প্রণোদনা প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে দ্রুত পুনর্বাসনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী মহালছড়ির মাইছড়িতে ওএমএস চাল বিক্রয় কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় নিম্ন আয়ের ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য সংগ্রহ করতে পারবে। পরবর্তীতে তিনি খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন, যেখানে দুর্যোগ পরবর্তী করণীয় ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
ত্রাণ বিতরণ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এরফানুল হক চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. এম. এন. আবছার এবং মহালছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, টানা ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ী ঢলের কারণে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন এলাকায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে কৃষি জমি, ফসলের মাঠ এবং বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে তাদের সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখা হবে। দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদগুলো নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে মাঠে কাজ করছে, যার ভিত্তিতে প্রণোদনা বিতরণের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।