অপরাধ ডেস্ক
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কুমারডাঙ্গা গ্রামে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে আলিনুর ফকির (৩০) নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের কুমারডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সন্নিকটে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আলিনুর ফকির ওই গ্রামের আব্দুল হাই ফকিরের ছেলে এবং পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী ছিলেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে আলিনুর ফকির কুমারডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় একই গ্রামের জাহাঙ্গীর শেখের ছেলে রাজিব শেখের কাছে আলিনুর তার পাওনা টাকা ফেরত চান। টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে আলিনুর ও রাজিবের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে রাজিব সাথে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে আলিনুরের পেটে আঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ছুরিকাঘাতে আলিনুর গুরুতর আহত হলে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন করে। নিহত আলিনুরের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, ব্যক্তিগত লেনদেন সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হওয়া এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং জড়িত ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকে অভিযুক্ত রাজিব শেখ পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে এবং মামলা রুজু হওয়ার পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।