আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের উপসাগরীয় আরব দেশ এবং ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে (কেআরআই) পরিচালিত সাম্প্রতিক সামরিক হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আরব লীগ। সংস্থাটির পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আরব লীগ বলছে, এ ধরনের হামলা অঞ্চলটিকে বৃহত্তর সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়ার একটি অপচেষ্টা।
শনিবার প্রকাশিত এই বিবৃতিতে আরব লীগের মহাসচিব আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, কুর্দিস্তান অঞ্চলসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর পরিচালিত এই হামলা ‘অপরাধমূলক ও বেপরোয়া’ আচরণের বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে বাহরাইন, জর্ডান, কাতার ও কুয়েতে ইরানের ক্রমবর্ধমান হামলায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। আরব লীগের মতে, এ ধরনের আগ্রাসী আচরণ মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক শান্তি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত নাজুক করে তুলেছে।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়, যেকোনো আরব দেশের ভূখণ্ডে আক্রমণ পরিচালনা করা পুরো আরব বিশ্বের জাতীয় নিরাপত্তা এবং যৌথ স্বার্থের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে। আরব লীগের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, এ ধরনের সামরিক তৎপরতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি করছে।
ইরানের প্রতি উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়ে সংস্থাটি জানায়, তেহরানকে অবিলম্বে এ ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে সমুদ্রপথের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যে হুমকি তৈরি হয়েছে, তা থেকে বিরত থাকা এবং কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে ফিরে এসে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতাগুলো মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
শনিবার ভোরে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের সুলাইমানিয়া ও এরবিল শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, এই হামলায় গোলাবারুদ মজুত রয়েছে এমন একটি গুদাম এবং ইরানবিরোধী কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর ব্যবহৃত একাধিক ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তবে এই হামলার দায় স্বীকার করে ইরান থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই ইরান তার সীমান্তবর্তী ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থানরত বিভিন্ন ইরানবিরোধী কুর্দি রাজনৈতিক ও সামরিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। তেহরান বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করে এসেছে যে, এই গোষ্ঠীগুলো ইরানের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে এবং তাদের তৎপরতা ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাটি সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলেই পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলার ফলে ইরাক ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্কের পাশাপাশি ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যকার কূটনৈতিক উত্তাপ আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সংকট নিরসনে এবং সামরিক সংঘাত এড়াতে আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যস্থতা ও গঠনমূলক সংলাপ এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। আরব লীগের এই কঠোর অবস্থানের ফলে ইরান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে চাপের মুখে পড়বে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।