রাজধানী ডেস্ক
চট্টগ্রাম বন্দরের চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনালের (সিসিটি) ৩ নম্বর বার্থে পণ্য খালাসের সময় গ্যান্ট্রি ক্রেনের তার ছিঁড়ে একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় ‘চ্যাং হাই’ নামক জাহাজ থেকে গ্যান্ট্রি ক্রেন ৪-এর মাধ্যমে একটি ৪০ ফুট দীর্ঘ আমদানি করা কনটেইনার নামানো হচ্ছিল। এ সময় কনটেইনারটি বহনকারী স্প্রেডারের লেসিং বা তার হঠাৎ ছিঁড়ে যায়। এতে কনটেইনারটি নিচে রাখা একটি প্রাইম মুভারের ওপর পড়ে যায়। দুর্ঘটনাকবলিত কনটেইনারটির ভেতরে আমদানিকৃত বড় গাছের গুঁড়ি ছিল, যা ভেঙে কনটেইনার থেকে বেরিয়ে আসে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট গ্যান্ট্রি ক্রেন, কনটেইনার এবং নিচে থাকা প্রাইম মুভারটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্ঘটনার পরপরই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। রাতেই কনটেইনারটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম উদ্ধারের কাজ সম্পন্ন করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর সর্বোচ্চ বন্দর নিরাপত্তা প্রোটোকল তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ কারিগরি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রবিবার সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ক্রেনটির মেরামত কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে যে, এই দুর্ঘটনার ফলে বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রমে কোনো স্থবিরতা তৈরি হয়নি। সিসিটি-৩ জেটির দুর্ঘটনাকবলিত নির্দিষ্ট স্পটটি ছাড়া বন্দরের অন্যান্য সকল বার্থে কনটেইনার হ্যান্ডলিং এবং সার্বিক অপারেশনাল কার্যক্রম বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। বন্দরের প্রতিদিনের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বজায় রাখতে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান প্রবেশদ্বার হওয়ায় এখানকার যেকোনো দুর্ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। সিসিটি দেশের অন্যতম ব্যস্ত টার্মিনাল হওয়ায় দ্রুততার সাথে উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করে কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের যান্ত্রিক দুর্ঘটনা এড়াতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্রেনগুলোর সক্ষমতা যাচাই অত্যন্ত জরুরি। বন্দর কর্তৃপক্ষ দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যন্ত্রপাতি আধুনিকায়ন ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের বিষয়টি আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর যান্ত্রিক ত্রুটি বা মানবজনিত ভুল—কোনটি দুর্ঘটনার মূল কারণ, তা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।