1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
কৃষি উপকরণ নিয়ে কারসাজি করলে কঠোর ব্যবস্থা: হুঁশিয়ারি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর খাগড়াছড়িতে পাহাড়ী ঢল ও বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ: পুনর্বাসনের ঘোষণা সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু নির্বাচন কমিশনে ২০২৫ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিল বিএনপি ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত: তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্তের পথে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সৃজিত পদসমূহ কম্পোজিশনে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল: টিকিটের দাম আকাশচুম্বী, দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে থাইল্যান্ডে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন আইজিপি শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে হেফাজতে ইসলামের তৎপরতা জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান চরমোনাই পীরের

হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ: সাংবিধানিক সংশোধনী স্বাক্ষর ও রাজনৈতিক পালাবদল

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ১৫ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট তামাস সুলিওক পার্লামেন্টে পাস হওয়া সাংবিধানিক সংশোধনী বিলে স্বাক্ষর করেছেন। এই স্বাক্ষরের মাধ্যমে তার প্রেসিডেন্সিয়াল মেয়াদের সমাপ্তি নিশ্চিত হয়েছে এবং রোববার মধ্যরাত থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেবেন। হাঙ্গেরির বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটিকে রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী পেতের মাগইয়ার নেতৃত্বাধীন তিসা পার্টি পার্লামেন্টে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই সাংবিধানিক সংশোধনীটি উত্থাপন ও পাস করায়। তিসা পার্টির নীতিনির্ধারকদের অভিযোগ ছিল, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত তামাস সুলিওক প্রেসিডেন্ট পদে আসীন থেকে পূর্ববর্তী সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখতে সচেষ্ট ছিলেন। গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে দীর্ঘ ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ভিক্টর অরবানের সরকারের পতন ঘটে, যার ধারাবাহিকতায় বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

হাঙ্গেরির সংবিধান অনুযায়ী, কোনো বিলে স্বাক্ষরের জন্য রাষ্ট্রপতির হাতে পাঁচ দিনের সময়সীমা থাকে। সেই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মেনে শনিবার সন্ধ্যায় সুলিওক বিলটিতে স্বাক্ষর করেন। তবে পদত্যাগের প্রাক্কালে তিনি বর্তমান সরকারের কার্যক্রমের কঠোর সমালোচনা করে একটি বিবৃতি প্রদান করেন। বিবৃতিতে সুলিওক দাবি করেন, বর্তমান সরকার আইনের শাসনের পরিপন্থী কাজ করছে এবং এই সাংবিধানিক সংশোধনী হাঙ্গেরির গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের জন্য একটি নেতিবাচক মোড়। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে মুক্ত সমাজের মৌলিক মূল্যবোধগুলোকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, তিসা সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তামাস সুলিওকের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিল। নতুন সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে সংবিধানে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এই সাংবিধানিক সংশোধনীর তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি এই উদ্যোগকে ‘স্বৈরাচারী পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর বিরুদ্ধে রাজপথে প্রতিবাদের জন্য সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গত এপ্রিলের নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের পর থেকে অরবানের দল ‘ফিদেস’ রাজনৈতিকভাবে বেশ দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। অরবান নিজেও বর্তমানে জনসমক্ষে খুব একটা উপস্থিত হচ্ছেন না এবং পার্লামেন্টে তার জন্য নির্ধারিত আসনে অনুপস্থিত থাকছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০১০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ফিদেস সরকারের শাসনামলে হাঙ্গেরির রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাপকভাবে দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় বিভিন্ন স্বাধীন সংস্থায় ফিদেসপন্থী ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সোমবার পার্লামেন্টে যখন এই সাংবিধানিক সংশোধনীটি পাস হয়, তখন তিসা পার্টির ১৪১ জন সদস্য করতালির মাধ্যমে বিষয়টিকে স্বাগত জানান।

এই বিষয়ে হাঙ্গেরির সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি আন্দ্রাস বাকা তার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। তিনি প্রেসিডেন্টকে অপসারণের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। বাকার ভাষ্যমতে, ১৯৮৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত হাঙ্গেরিতে আইনের শাসন কার্যকর থাকলেও, পরবর্তী সময়ে ফিদেস সরকার ধারাবাহিকভাবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একটি কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা গড়ে তোলে। তিনি আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে যে সুসংগঠিত কর্তৃত্ববাদী কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, তা ভেঙে ফেলা বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হাঙ্গেরির ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থায় কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে। প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের পর দেশটির পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার দিকে এখন সবার নজর রয়েছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026