1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
কৃষি উপকরণ নিয়ে কারসাজি করলে কঠোর ব্যবস্থা: হুঁশিয়ারি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর খাগড়াছড়িতে পাহাড়ী ঢল ও বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ: পুনর্বাসনের ঘোষণা সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু নির্বাচন কমিশনে ২০২৫ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিল বিএনপি ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত: তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্তের পথে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সৃজিত পদসমূহ কম্পোজিশনে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল: টিকিটের দাম আকাশচুম্বী, দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে থাইল্যান্ডে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন আইজিপি শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে হেফাজতে ইসলামের তৎপরতা জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান চরমোনাই পীরের

ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ১৬ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম)। সাম্প্রতিক সময়ে জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার ঘটনায় দুই সেনাসদস্যের মৃত্যু ও একজন নিখোঁজ হওয়ার পর ওয়াশিংটন এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল।

সেন্টকমের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার সাথে জড়িত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) জবাবদিহিতার আওতায় আনাই ছিল এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। তবে সুনির্দিষ্টভাবে ঠিক কোন স্থাপনাগুলোতে এই হামলা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে ইরানের মেহর বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক এলাকার কাছে মার্কিন বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। এক মাস আগে সম্পাদিত অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি গত সপ্তাহে ভেঙে যাওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরুর ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

জর্ডানের ঘটনার পর সেন্টকমের তথ্যমতে, চলমান এই দ্বন্দ্বে এ পর্যন্ত মোট ১৬ জন মার্কিন সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন চার শতাধিক। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের আত্মত্যাগ যুক্তরাষ্ট্রের সংকল্প আরও দৃঢ় করবে বলে মন্তব্য করেছেন।

এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইরান কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন মিত্র দেশগুলোর সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা বেশ কিছু ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তারা ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান এবং আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে সফল আঘাত হেনেছে। এ ছাড়াও বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটি এবং জর্ডানের আল আজরাক ঘাঁটিতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় সৌদি আরবের আল-খারজ ও ইয়ানবু অঞ্চলে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আল-খারজে মার্কিন সেনাসদস্যদের অবস্থান রয়েছে এবং ইয়ানবু একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি টার্মিনাল হিসেবে পরিচিত। যদিও সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক কোনো কারণ উল্লেখ করেনি, তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলে অস্থিরতা সৌদি অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে সংঘাত উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য ওয়াশিংটনকে চড়া মূল্য দিতে হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘনের মাধ্যমে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। অপরদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই মার্কিন সামরিক অভিযানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথে যেকোনো ধরনের সামরিক উত্তজনা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং উপসাগরীয় দেশগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে সব পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সাথে তারা ইরানকে সব ধরনের আক্রমণাত্মক কার্যক্রম বন্ধ করে হরমুজ প্রণালিতে নির্বিঘ্নে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতির ওপর জাতিসংঘসহ বিশ্বসম্প্রদায় গভীর পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026